বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আইনমন্ত্রী জানান, ২৩৫৮৬৫ রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার হয়েছে

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলোর প্রত্যাহারে সরকারের কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে, গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (১লা এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করছিলেন, এবং এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য দেন।

মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মামলা দায়ের হয়েছে, তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে সংরক্ষিত নেই। তবে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত এ দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, গত ৫ মার্চ জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি পুনর্গঠিত হয়। এই কমিটি মামলার আবেদনপত্র, এজাহার, অভিযোগপত্র (চার্জশিট) এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে। যদি দেখা যায় যে মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে এবং জনস্বার্থে চালানো দরকারি নয়, তবে সেটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করে।

সংসদে আরও জানানো হয়, এই সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কার্যকর করতে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ একটি কেন্দ্রীয় ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়, যার নেতৃত্ব দেন আইনমন্ত্রী। এই কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এতদিনে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। এখনো যারা মামলা প্রত্যাহার হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে রাজনৈতিক হয়রানি কমানোর পাশাপাশি আইনী প্রক্রিয়াগুলো আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।