বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসের মুহূর্ত

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হলেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় তিনি কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন, স্লোগান দিতে থাকেন এবং তাকে স্বাগত জানান। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। যখন তারেক রহমান গাড়ি নিয়ে কার্যালয়ের সামনে আসেন, তখন নেতাকর্মীরা হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানিয়ে তাকে বাহবা দেন। তিনি গাড়ি থেকে নামতেই হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান, এরপর তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। শনিবার সন্ধ্যায় দলের কার্যালয়ে দাঁড়িয়ে তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা প্রদান করেন, যেখানে তিনি দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে সকলের সহায়তা প্রয়োজন এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ মোকাবেলায় ধৈর্য্য ধারণের জন্য সবাইকে অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা থাকবে, পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে। আমি অফিসে আরও আসব, কিন্তু রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে না।’ তিনি নেতাকর্মীদের দ্রুত রাস্তাগুলো ফাঁকা করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি আরও বলেন, দলের কার্যক্রম চালাতে এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করার জন্য কার্যালয়ে আসাটা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটা সম্ভব হবে শুধুমাত্র যদি সবাই সহযোগিতা করে। তারেক রহমান নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার মধ্যে থেকেই আমাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে হবে এবং দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। দেশের সমসাময়িক সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং তাদের ধৈর্য্য ধরে সহায়তা করতে হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘মানুষ আমাদের দিকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। তাই যেন কোনো কর্মকা-ের মাধ্যমে মানুষের কষ্ট বা অসুবিধা না হয়, সেদিকে সবাই সচেতন থাকতে হবে।’ বক্তৃতার শেষ অংশে তিনি সড়ক নিরাপদ রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন, বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হলো রাস্তাগুলো খালি করা। ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে না পারলে আমাকে এখানে আসা বেশ কঠিন হয়ে যাবে।’ এর আগে সন্ধ্যায় নেতাকর্মীদের বিপুল সংঙ্গায় স্বাগত জানান দলের নেতাকর্মীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সকাল থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল থেকে নয়াপল্টনের রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়, যেখানে নেতাকর্মীরা দলীয় পতাকা, ফেস্টুন ও স্লোগান নিয়ে উপস্থিত হন। দুপুর ২:৩০ থেকে শুরু করে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দেন, যেমন ‘প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমানের আগমন শুভেচ্ছা’, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ ও শুভেচ্ছা’ ইত্যাদি। একই সময় সড়কে ভিড়ের কারণে নয়াপল্টনে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যেখানে গাড়িগুলো এক লাইনে চলাফেরা করছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কঠোর করা হয়, নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, ভিআইপি রোড ও কাকরাইল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এ ব্যাপারে এক নারী কর্মী বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা এখানে আসতে পারতাম না। পুলিশ সব সময় আটক করত। আজকে আল্লাহর রহমতে সম্ভব হলো।’ এই দিনটি যেন একদমই ভিন্ন অনুভূতি নিয়ে এসেছে নেতাকর্মীদের জন্য।