বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ইরাক। দীর্ঘ ৪০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশের ফুটবল দল। মঙ্গলবার মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে তারা নিশ্চিত করে নিজেদের বিশ্বকাপের স্থান। এই জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য টুর্নামেন্টে তাদের অবদান চূড়ান্ত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই ইরাকের ফুটবল দল এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নেমে লড়াই করে যায়। কঠোর প্রস্তুতি আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও তারা অসাধারণ লড়াই দেখিয়েছেন। এখন তারা গ্রুপ ‘আই’-তে ফ্রান্স, সেনেগাল এবং নরওয়ের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে দেখা গেছে ইরাককে। নবম মিনিটেই দলের offence শুরু করেন আলি আল-হামাদি, কর্নার থেকে হেডে প্রথম গোলটি করেন তিনি। এটি ছিল দলের জন্য আত্মবিশ্বাসের আক্ষেপ। প্রথমার্ধে তারা ভালো খেললেও ৩৮ মিনিটে বলিভিয়া সমতায় ফিরতে সক্ষম হয়। রামিরো ভাকার শট থেকে বল পেয়ে ময়েসেস পানিয়াগুয়া দক্ষতার সঙ্গে গোল করে ব্যবধান কমান।
ম্যাচের দ্বিতীয়ভাগে ইরাক আবার এগিয়ে আসে। ৫৩ মিনিটে মার্কো লওক-ফারজির ক্রস থেকে অধিনায়ক আয়মান হুসেইন প্রথমবারের মতো বলটি জালে জড়ান। এই গোলটি দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
শেষ সময়ে বলিভিয়া সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায়, চাপ বাড়ায়। কিন্তু ইরাকের রক্ষণভাগ খুবই দৃঢ়ভাবে খেলেছে এবং তারা সব আক্রমণ প্রতিহত করে গেছে। নির্ধারিত সময়ে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলা চলে, ফলে উত্তেজনায় ভরপুর এক পর্যায় আসে। অবশেষে ইরাকের জয় অব্যাহত থাকে, যা তাদের এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন।
ইরাকের জন্য এই জয় আরও বিশেষ, কারণ তারা সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এবার আবারও বিশ্বের অন্যতম বড় ফুটবল আসরে খেলার সুযোগ পেয়েছে দলটি, যা তাদের জন্য গর্বের বিষয়।
অস্ট্রেলিয়ান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডের জন্যও এই সফলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ম্যাচের তারিখ পরিবর্তনের জন্য তিনি আবেদন করেছিলেন, কিন্তু প্রতিকূলতা অতিক্রম করে দলকে বিশ্বকাপে উঠিয়ে এনেছেন।
তিন দিনের দীর্ঘ যাত্রা শেষে মাঠে নেমেও ক্লান্তি দেখা যায়নি। বরং ফুটবলাররা দৃঢ়তা ও লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইরাকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো, এবং তারা আবারও ফুটবলের বিশ্ব মানচিত্রে নিজেদের প্রমাণ করতে পারল।





