বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অপ্রতিরোধ্য ধারণা: এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের সংকট হবে না, জানালেন জ্বালানি সচিব

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, আগামী এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের কোনো ধরনের সংকট দেখা দেবে না। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার অপচেষ্টাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ মজুতদারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, বলেছেন তিনি।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির অবনতি স্বত্ত্বেও, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহে হয়তো কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, তবে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং অনুমোদন পেলে দ্রুত সরবরাহ শুরু হবে।

বর্তমানে দেশের জ্বালানি আমদানির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে পরিশোধিত জ্বালানি তেল স্বাভাবিকভাবে সরবরাহিত হচ্ছে, এর পাশাপাশি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে, কোনো জ্বালানি ঘাটতি থাকছে না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, সরকার ইতিমধ্যেই কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নানা অভিযান চালাচ্ছে। অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করলে প্রচলিত আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, যেখানে সম্ভব হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকৃত জ্বালানি তেল সরাসরি দেশের খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ সুবিধা পায়।

কৃষকদের জন্য ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে জেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে, এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির কথা জানান।

ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিআইপিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এরকম কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সবাইকে সমান গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের নীতিতে স্থান দেওয়া হয়।

জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ও ব্যক্তিগত পর্যায়েও সাশ্রয়ী হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই সমস্যা বৈশ্বিক, তাই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এর সমাধানের মূল চাবিকাঠি।

বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানো হয়েছে কিনা, সেটির উত্তর দিয়ে তিনি জানান, চাহিদার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় চলছে।

অতএব, নতুন কোন উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি জানান, ভবিষ্যতে সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করতে মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তান, কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, সিঙ্গাপুরসহ আঞ্চলিক বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।