ইরানের রাজধানী তেহরানে স্থাপিত শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরান’—এ হামলা চালানো হয়েছে এবং সেখানে ব্যাপক ধ্বংস ও ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। এখনো নিশ্চিত কোনও পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি; যুক্তরাষ্ট্র না ইসরায়েল—কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
ইরান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপুর বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টে জানিয়েছেন, ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গবেষণা কেন্দ্রটি শত্রুদের আক্রমণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোস্টে তিনি কেন্দ্রটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশের ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে ভবনটির অনেক অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং ভিতরের অবকাঠামোও বহুলাংশে নষ্ট দেখা গেছে।
কেরমানপুর ইনস্টিটিউটটিকে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেছেন, পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরানের ওপর এই আগ্রাসন জেনেভা কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অভূতপূর্ব লঙ্ঘন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দিক থেকে অভিযুক্ত পক্ষ সম্পর্কে স্পষ্ট দাবি না জানানো হলেও, ঘটনার ছবি ও ক্ষতির পরিমাণ দেখিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে যে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও গবেষণার অবকাঠামোয় বড় ধরনের আঘাত এসেছে।
একই সময়ে, ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের এক মাসে ইরানে ১ লাখ ১৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ৯০,০৬৩টি আবাসিক ভবন, ২১,০৫৯টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ৭৬০টি শিক্ষাকেন্দ্র।
ইরানের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, ৫৬টি জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভসহ দেশটির বহু ঐতিহ্যবাহী স্থানও হামলার শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ইসফাহানের সাতদশ শতকের চেহেল সোতুন প্রাসাদ এবং ইরানের প্রাচীনতম জুমা মসজিদ ‘মাসজিদ-ই জামে’।
সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী রেজা সালেহি আমিরি বলেন, এই ধরনের হামলা কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই ইরানি পরিচয় ও ঐতিহ্যের ওপর ‘পরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত আক্রমণ’। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘আজ আমরা সেই নৈতিক ও আইনি নিয়মগুলোর সম্পূর্ণ পতন দেখছি, যা আগে সংঘাতগুলোকে সীমিত করত।’
ঘটনাস্থল ও আক্রমণের মিলিত প্রভাব সম্পর্কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, বিশেষত গবেষণা ও জনস্বাস্থ্যের সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এ ধরনের আক্রমণ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মানবিক আইনকে কৌশলগতভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলে।
সূত্র: আলজাজিরা





