সোমবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জুলাই গণহত্যা মামলায় শেখ মামুন খালেদ ফের তিন দিনের রিমান্ডে

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিরপুর মডেল থানায় দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদের আদালত সোমবার (৬ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন বিবেচনা করে এই রিমান্ডের আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী পুলিশের আবেদন এবং আদালতের আদেশের বিষয়টি প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত দল জানিয়েছে, গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম মিরপুরে অভিযান করে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে। পরদিন তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং পরে ৩১ মার্চ আরও ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। দুই দফায় মোট ১১ দিন রিমান্ডের পর সোমবার তদন্তকারীরা আদালতে উপস্থিত করে পুনরায় চার দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে এবং সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ কারণেই তদন্তকারীরা পুনরায় রিমান্ডের আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও জামাল উদ্দিন মারজিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম পাখি রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মামলার তদন্ত চলমান থাকায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে তিনটায় মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, ওই সময় আওয়ামী লীগের প্রায় ৫০০-৭০০ জন নেতাকর্মী অংশ নেয় এবং শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।

এই হামলায় গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হন। ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে মিরপুর থানায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্ত এখনো চলছে এবং আদালত প্রদত্ত এই রিমান্ডের মাধ্যমে তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।