চলমান অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশের মোট জিডিপির বৃদ্ধির হার আবার কমে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, অক্টোবর-ডিসেম্বরে জিডিপির বৃদ্ধি হার ছিল ৩.০৩ শতাংশ, যা এর আগে জুন-সেপ্টেম্বরে ছিল ৪.৯৬ শতাংশ। এর আগে গত অর্থবছরের একই সময় ছিল ৩.৩৫ শতাংশ। এ তিনের মধ্যে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি এই প্রান্তিকে হওয়ায় অর্থনৈতিক অগ্রগতি কিছুটা ধীর হয়ে গেছে।
বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ার কারণে দেশের জ্বালানির সংকট আরও গভীর হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার ফলে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের মতো দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নতুন সরকার অর্থনৈতিক সংকটের কারণে উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগে ব্যাহত হচ্ছে, যা পুরো অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রান্তিকে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে, যেখানে বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১.২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, কৃষি খাতে ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪.৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৮২ শতাংশ, যা এখন অনেক কমে গেছে। কৃষি ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে উন্নতি হলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফিরে ধীর হয়ে পড়ে।
অর্থনীতির মূল ভিত্তি শিল্প খাতে বেশি হলেও, এই খাতের প্রবৃদ্ধির কমতির কারণে মোট জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশয় দেখা দিয়েছে। গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ২.০৫ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকে বেড়ে ৪.৯৬ শতাংশে পৌঁছেছিল, কিন্তু পরে আবার কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জলবায়ু পরিবেশের কারণে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফিরতি ধাক্কা খাচ্ছে, যা সামগ্রিক হলেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি সতর্ক সংকেত।





