মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: এক রাতেই ইরানকে ধ্বংস করা সম্ভব, হতে পারে মঙ্গলবারই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইচ্ছে করলে এক রাতেই ইরানকে ধ্বংস করে দিতে পারেন তিনি, আর সে রাতটি হতে পারে আগামী মঙ্গলবার। সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসের সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে কোনওطرفে ছাড় দেওয়া হবে না, আর সম্প্রতি সে উদ্দেশ্যই এগিয়ে নিতে তিনি প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, যদি আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে কোনো সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি না আসে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যত্র ব্যাপক হামলা চালাতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘এক রাতেই ইরানের পুরো দেশ শেষ করে দেওয়া সম্ভব, আর সেই রাতটি হয়তো আগামীকালও হতে পারে।’ এই মন্তব্যের ফলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। একই সময়ের ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, ইরানের বিরুদ্ধ চলমান অভিযান এখন সবচেয়ে বড় আকারে পৌঁছেছে এবং মঙ্গলবার পর্যন্ত আরও ব্যাপক হামলা চালানো হতে পারে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন পাইলটের উদ্ধার অভিযানে অনেক বিপদজনক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তারা সফল হয়েছেন। ট্রাম্প জানান, ভূপাতিত হওয়ার পর ইরানের পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে থাকা ওই মার্কিন পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই উদ্ধার অভিযানে শত শত মার্কিন সেনা অংশ নেন এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম কৌশল কাজে লাগানো হয়। গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র পরিচালক জন রেটক্লিফ জানান, তারা একটি ‘প্রতারণামূলক অভিযান’ চালিয়েছিলেন যাতে ইরানের মনোযোগ অন্য দিকে ফেলা যায় এবং পাইলটের বাস্তব অবস্থান গোপন রাখা যায়। পরে শনিবার সকালে নিশ্চিত হয় যে, পাইলটটি জীবিত থাকেন এবং পাহাড়ের গুহায় লুকিয়ে আছেন। এর পরে, অপ্রতিরোধ্য নিশ্চয়তা নিয়ে জানা যায়, শত্রুর চোখ এড়িয়ে তিনি সিআইএর নজরে ছিলেন। গত শুক্রবার নিখোঁজ হওয়া ওই পাইলটকে রোববার সকালে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সেনাদের তৎপরতায়, নির্দিষ্ট কৌশল ও অসাধারণ দক্ষতার মাধ্যমে তারা শত্রুকে প্রতিহত করে পাইলটকে উদ্ধার করে, কোন ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া ইরানের এলাকা ত্যাগ করে। অবশেষে, এই পুরস্কারজনিত অপারেশনে পাইলট একটি জরুরি ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান জানালে, তিনি প্রথমে বলেছিলেন—‘ঈশ্বর মহত্ম্ব’। এই ঘটনাই বার্তা দিয়েছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুত আরও বড় আক্রমণের জন্য, যদি প্রয়োজন হয়।