মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংবিধান সংস্কার ও গণভোট রায় বাস্তবায়নে ১১ দলের চার দিনের কর্মসূচি

সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ও সমর্থক ১১ দলীয় জোট দেশব্যাপী চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয় এই কর্মসূচির কথা। বৈঠকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

মামুনুল হক অভিযোগ করে বলেন, সরকার জনম্যান্ডেটকে উপেক্ষা ও উপহাস করছে এবং নির্বাচনের আগে যে ঐকমত্য গড়া হয়েছিল, তা সংস্কারসংক্রান্ত ইস্যুতে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান শাসন একদলীয় ও নব্য ফ্যাসিস্ট স্বাভাবিকতায় এগোচ্ছে এবং সরকারের সমালোচনায় মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে; তবে ১১ দলীয় জোট নব্য ফ্যাসিবাদকে যেকোনো মূল্যে রুখে দেবে।

জোটের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোট রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ শুরু হবে। ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ১২ এপ্রিল প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন থাকবে এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোট রায় কার্যকর করার পক্ষে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে দায়ী করে বলেছেন, সরকার বিরোধীদলকে রাজপথে নামতে বাধ্য করছে। তিনি বলেন, বিএনপির কার্যকলাপ সম্পর্কে জাতি হতবাক ও বিস্মিত; গণভোটের রায়ে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ইতোমধ্যে কার্যত স্থগিত হয়ে পড়েছে, এবং সংসদে মাত্র একজনের কর্মকাণ্ডের কারণে সংবিধানকে সংকটবশতভাবে টেনে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না এবং যারা দিল্লির আগ্রাসনের বিরোধিতা করছে তাদেরকে সরকারের দিকে থেকে ‘রাজাকার’ জাতীয় তকমা দেয়া হচ্ছে। তিনি একই সঙ্গে বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান।