খুলনায় ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসী ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ’’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক বুধবার (৮ এপ্রিল) খুলনা কারিতাস আঞ্চলিক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা সিটিকে গ্রীন, ক্লিন ও ধুলামুক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা জরুরি। শহরের জলাবদ্ধতা নির্মূলের জন্য পরিকল্পিত কাজ করা হচ্ছে এবং বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য আলাদা একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা শুধু সভা-সেমিনার করে সমাধান হবে না, এর মোকাবিলায় সবাইকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও প্রতিক্রিয়া দেন যে, শহরে ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ চলছে। পাশাপাশি সাইক্লোন ও নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য পরিকল্পনা গঠন করা দরকার। তিনি জানান, খুলনার উন্নয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে।
গোলটেবিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহম্মেদ। স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট (কুয়েট)-এর সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে কারিতাসের টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ ইম্মানুয়েল চয়ন বিশ্বাসও বক্তৃতা করেন।
বৈঠকে এও উঠে আসে যে, বাংলাদেশে দুর্ঘটনা ঝুঁকি হ্রাস (DRR) ও জলবায়ু অভিযোজন (CCA) সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিমালা ও পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষায় সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি রয়েছে। তাই এই গোলটেবিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, গবেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নীতিগত সংলাপ সৃষ্টি করা, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা ও তা সম্প্রসারণের উপায় চিহ্নিত করা, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা এবং DRR-CCA-Social Protection ক্ষেত্রে সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল সামাজিক সুরক্ষার জন্য সুপারিশমালা তৈরি করা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, গণমাধ্যমকর্মী, এনজিও প্রতিনিধিসহ স্থানীয় কমিউনিটি লিডাররা অংশ নেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।





