বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আসিফের সতর্কতা: ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারো অভ্যুত্থানের আশঙ্কা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বর্তমান সরকারের ২৪ সালের অর্জন কিংবা চেতনা যদি রক্ষা না করা যায়, তবে ২৬ বা ২৭ সালে আবারো একই ধরনের অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইতিহাসে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের সফলতা তখনই রক্ষা পায়নি, যখন এর ফলাফল पुनরুদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। তেমনি, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত লক্ষ্যে অবিচল থাকলে ভবিষ্যতে আরেকটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটতে পারে। রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার বিভিন্ন সময় গণভোটের রায় উপেক্ষা করে, জনসমর্থন না থাকা সত্ত্বেও নানা ধরনের রাষ্ট্র সংস্কারমূলক জরুরি অধ্যাদেশ জারি করছে। তিনি বলেন, প্রতিবারের মতো এবারো সংবিধানের কথা কেবল আলোচনায় উঠে, কিন্তু সরকার নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও, বর্তমান প্রশাসন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠায় ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে অবৈধভাবে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণের ভয় দেখিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী।

অন্যদিকে, ফোনে অডিও অপারেশনসংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বললেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার ১৮-১৯টি এজেন্সির মাধ্যমে ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা রাখত, যার ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই ক্ষমতা কমিয়ে ৪টি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট করে দেয়া হলেও, বর্তমান সরকার তা আবারো বহাল করে আনছে, ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনা বাড়ছে।

আসিফ মাহমুদ বলেছেন, বর্তমানে স্বৈরাচারী স্বভাবের লক্ষণ স্পষ্ট। তিনি বলছেন, যদি এই সরকার গণভোটের রায় মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তারা নিজেরাই ‘অবৈধ’ ঘোষণা করবেন। বলেন, শুরু থেকে তারা যদি আমাদের অর্জনগুলো ধুলিসাৎ করতে সচেষ্ট থাকে, তাতে আমরা তাদের অবৈধ বলতে সময় নেব না।

শেষে, তিনি জানান, গণভোট নিয়ে তৈয়ার স্বেচ্ছাচারী নাটকীয়তা দেখে নিজেরা রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছেন। এই আন্দোলন দেশের জন্য শুভ হবে না বলে সতর্কতা দেন তিনি। সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন অংশীর সঙ্গে বসে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জন্য প্রস্তুত হলেও, এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্দোলন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ আরও নেতৃবৃন্দ।