মোংলা শহরে অবৈধভাবে জ্বালানি ও ভোজ্য তেল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান চালানো হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয় র্যাব ও উপজেলা প্রশাসন একত্রে। গোপন তথ্যের সূত্র ধরেই বুধবার বিকেলে মোংলা বন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু হয়। অভিযানে এক হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়, পাশাপাশি অবৈধ মজুদকারীদের বড় অংকের জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, অবৈধভাবে সংরক্ষিত এ তেল দ্রুত বাজারে বিক্রি করে সংকট কেটে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে মোংলার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে জ্বালানি ও ভোজ্য তেল মজুদ করে আসছিল। এই সংবাদের প্রমাণের জন্য জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) একটি বিশেষ দল তথ্য সংগ্রহে নিযুক্ত হয়। পরে র্যাব-৬ এবং উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওসিনা অরিফ। এ সময়, সিন্ডিকেট তৈরি করে রাখা ব্যবসায়ী ‘ইউছুপের তেলের গোডাউন’ থেকে এক হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। এর পাশাপাশি স্থানীয় বড় পাইকারি দোকান, মুদি বাজারের সোভা স্টোর, এবং জালাল স্টোরের কাছ থেকে আরও বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত তেলগুলোর কোনও বৈধ কাগজপত্র ছিল না এবং ব্যবসায়ীরা তাদের মজুদ করার কারণও উপস্থাপন করতে পারেনি। মূলত, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে তারা এই তেল মজুদ করেছিল।
অভিযান চলাকালে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে তেল মজুদ এবং সঠিক মূল্য তালিকা না দেখানোর অপরাধে বিভিন্ন দোকান ও গুদামের মালিকদের জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ইউছুপের ‘গোডাউন’ থেকে ৫০ হাজার, জালাল স্টোর থেকে ৬০ হাজার, সোভা স্টোর থেকে ১৫ হাজার টাকা, এবং একটি মোটরজান থেকে এক হাজার টাকা সহ মোট ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। এছাড়াও, জব্দকৃত তেলগুলো অবিলম্বে বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তা বাজারে সংকট সৃষ্টি না করে।
আন্তঃত এই অভিযান শেষে, র্যাব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোংলা বন্দরের ব্যবসায়ী ইউছুপকে প্রথমবারের মতো সতর্ক করে দিয়েছেন। তাকে গোপন নজরদারিতে রাখা হয়েছে, তার কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে এবং এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা অব্যাহত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশাসনের আশা, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও এ ধরনের দ্রুত অভিযান চলমান থাকলে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমে আসবে। মোংলার সাধারণ মানুষ এবিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন, তারা মনে করেন such পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে বাজারের স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে এবং ভোক্তাদের ভোগান্তি কমবে।





