বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে ইসরায়েলকে কঠোর জবাব দেবে ইরান

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও লেবাননে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। দখলদার বাহিনীর শতাধিক বিমান হামলায় বর্তমানে রাজধানী বৈরুত ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘আমরা যদি আমাদের প্রিয় লেবাননের ওপর হামলার পরিমাণ কমাতে না পারি, তবে এই অঞ্চলের দুষ্ট অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’ অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, ‘লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধের জন্য আমরা আজকের দিনটি শেষ সীমা হিসেবে নির্ধারণ করছি। যদি এই আক্রমণ অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী শুক্রবারের আলোচনা বাতিল বলে বিবেচিত হবে এবং আমরা তাতে অংশ নেব না।’ আরও এক উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা আল কাবাসের সাথে কথোপকথনে বলেছেন, ‘লেবাননে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের জবাবে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের এই ঘটনা প্রতিরোধে পুরো অঞ্চল জুড়ে কঠোর সত্তা থাকা প্রয়োজন। ইসরায়েল কথায় কি মানে, তা তারা শুধুমাত্র বুলেট দিয়ে প্রতিহতই করা যাবে।’ পাশাপাশি, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজে একজন অজ্ঞাত সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। পরিস্থিতি এখন খুবই উত্তেজনাপূর্ণ, এবং যদি আরও বিস্তারিত তথ্য আসে, তা অবশ্যই জানানো হবে। অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে আবারও বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ইরানি সংবাদ মাধ্যম। ফার্স নিউজে বলা হয়েছে, বুধবার সকালে ইরানের অনুমতি নিয়ে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিল, তবে এখন এই ট্রাফিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি থাকাকালীন মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লেবাননের রাজধানী বৈরুত ও দক্ষিণাঞ্চলে একযোগে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, তাদের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর কেন্দ্রস্থলের ওপর আকস্মিক আরোপ করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমরা নাঈম কাসেমের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসী নেতাকে হত্যা করতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের স্বার্থে হামলা অব্যাহত থাকবে।’ লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের ১০০টির বেশি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত হামলা ও আহতদের চিকিৎসায় কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘বৈরুত ও অন্যান্য এলাকায় ইসরায়েলের হামলার ফলে হাসপাতালগুলোতে আহত ও নিহতের সংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়ছে।’ লেবাননের আনুষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ব্যুরো প্রধান মাজেন ইব্রাহিম বলেছেন, ১৯৮২ সালে ইসরায়েলে বৈরুত আক্রমণের কথাই মনে পড়ছে। তখনো এমনসব এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল, যেখানে সাধারণ হিজবুল্লাহর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকত না। প্রধানমন্ত্রীর নওয়াফ সালাম বলেছেন, ইসরায়েল ভয়ঙ্করভাবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাকে টার্গেট করে সাধারণ মানুষের জীবন নাকোচ করছে। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে যুদ্ধ চালাচ্ছে, মানবিক আইনকে উপেক্ষা করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উপেক্ষা করে নিজের মতেই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি সকল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিকে এই আগ্রাসন বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা করে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েল লক্ষ্য করে ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয়। এরপরই, লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি আক্রমণের প্রতিশোধ হিসেবে তেহরানেSupport linkে আরও আক্রমণ চালাতে প্রস্তুতি নেয়। গত ৩৯ দিন ধরে চলা এই সংঘর্ষ শেষ হওয়ার জন্য পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এই চুক্তিতে দাবি করা হয়, যুদ্ধের সমস্ত রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করতে হবে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে আঞ্চলিক কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে লেবাননে যুদ্ধস্থগিতের বন্দোবস্ত করা হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে জানান, লেবাননসহ সবক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তবে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এ চুক্তির অংশ নয়।’