বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আইসিসির নীরবতা ও তামিমের আস্থা: ভারত বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কের নতুন দিশা

বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনা ও প্রত্যাশার জন্ম দিচ্ছে। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে গঠিত ১১ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বোর্ডের কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে, তামিমের নেতৃত্বে বোর্ড ভারত সফরে যাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এ বছরের শেষের দিকেই ভারতীয় দলকে বাংলাদেশে আক্রোশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের পুনরুদ্ধার ও সৌহার্দ্য ফেরানোর একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপটি সাম্প্রতিক দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা অসন্তোষ কাটিয়ে আন্তঃদেশীয় সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এক নতুন প্রত্যয়। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের ক্রিকেটের মধ্যে অবনতি ঘটে যাওয়ার পর, যখন বাংলাদেশ নিরাপত্তার বিষয় তুলে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়। বিশেষ করে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজনে অস্থিরতা দেখা দেয়, যেখানে আইসিসি বাংলাদেশে না এসে স্থানীয় বোর্ডের অনুরোধে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই ঘটনায় দুই দেশের বোর্ডের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে।

নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তামিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের এই আংশিক বোর্ড আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের দায়ভার গ্রহণ করেছে। এটি বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার করার অংশ, যেখানে সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়। তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আইসিসির কাছে হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি লিখলেও, আইসিসি সূত্রগুলো বলছে, তার আবেদন খুবই গুরুত্ব পাবে না, কারণ তার অবস্থানে বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে।

প্রায় একই সময়ে, সেদিন বুলবুল আইসিসিকে বলেছিলেন, সরকারি নির্দেশনায় দল ভারতে যেতে পারেননি। এখন তিনি আবার একই সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইসিসির সুরক্ষা পেতে চান। আইসিসির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘এটি সত্যিই আশ্চর্যজনক। এই সেই বোর্ড সভাপতি যিনি আগে আইসিসির চুক্তি সত্ত্বেও সরকারী হস্তক্ষেপের ভয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি, এখন আবার সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়টিতে আইসিসির সহায়তা চাইছেন।’

এখন দ্রুত পদক্ষেপ ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের ক্রিকেট আবারও নিজেকে নতুন উচ্চতায় দেখতে পাবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি হবে, যা দুই দেশের সকল ক্রিকেটপ্রেমীর জন্যই সুখবর।