শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির অভিযোগ: গোলাম পরওয়ার

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে নজিরবিহীনভাবে ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল ও প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব অনিয়মের ফলে বিএনপি এমন কৌশল অবলম্বন করেছে যে আওয়ামী লীগও হার মানিয়েছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) জুমা নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে এবং ফলাফল বাতিল করার দাবিতে ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামি সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল তারা গণভোট জয়যুক্ত হলে তা অক্ষরে অক্ষরে মানবে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা সেই গণভোটের আদেশই বাতিলের চেষ্টা করছে—এ ধরনের দ্বিচারিতা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহীদদের রক্তের আত্মার সঙ্গে বেঈমানি বলে তিনি আখ্যা দেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ওপর হঠাৎ করে আক্রমণের ছবি মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে জনগণের সঙ্গে তামাশা করেছে। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ফেরত না দিলে গণআন্দোলন তার শেষ বিকল্প হবে বলে ইঙ্গিত দেন।

জামায়াত নেতাগণ বিএনপিকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না; বরং ক্ষমতায় থাকতে চাইলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে হবে বলে তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নানসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

অন্য উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, কামরুল আহসান হাসান, আবদুস সাত্তার সুমন এবং আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।

জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকার্রমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পরে পল্টন মোড় ও বিজয়নগর গোলচত্বর পর্যন্ত সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনের ফল বাতিল ও ন্যায়বিচার দাবি জানানো হয়।