রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২-এর চার নভোচারী

নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চারজন নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে অভিবাসন করেছেন। গত দশ দিনের অভিযান শেষে তাঁরা স্থানীয় সময় ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে ওরিয়ন ক্যাপসুলে অবতরণ করে এবং নাসার উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় নিরাপদে ক্যাপসুল থেকে উত্তরণ করেন।

আর্টেমিস-২ গত ১ এপ্রিল কেনেডি স্পেস সেন্টার, ফ্লোরিডা থেকে চাঁদভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। মিশনে ছিলেন রেইড ওয়াইজম্যান (৫০), ভিক্টর গ্লোভার (৪৯), ক্রিস্টিনা কোচ (৪৭) ও জেরেমি হ্যানসেন (৫০)। এই দলে প্রথম তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং জেরেমি হ্যানসেন কানাডার নাগরিক।

নাসা জানিয়েছে, অভিযানে আর্টেমিস-২ পৃথিবীকে দুইবার প্রদক্ষিণ করতে গিয়ে মোট ১,১১৭,৫১৫ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে এবং চাঁদের কাছাকাছি যাওয়ার চূড়ান্ত ফ্লাইবাইয়ে পৌঁছানোর সময় প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছে। ফ্লাইবাই বলতে বোঝানো হয় মহাকাশযান যখন কোনো গ্রহের খুব কাছে থেকে মায়াজনিত গতিবেগ বদল করে চলে যায় — কক্ষপথে আটকে না থেকে কেবল পাশ কাটিয়ে যাওয়া।

পৃথিবীতে পুনঃপ্রবেশের সময় ওরিয়ন ক্যাপসুল বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে খুব দ্রুত গরম হয়ে ওঠে; ক্যাপসুলের বাইরের অংশের তাপমাত্রা প্রায় ২,৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল। প্রবেশের পরের গুরুত্বপূর্ণ ১৩ মিনিটের মধ্যে এসব তাপ এবং বায়ুমণ্ডলের শক্ত ঘর্ষণের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ক্যাপসুল তখন এক ধরনের ‘অগ্নিগোল’র মধ্যে দেখা গিয়েছিল। তাই সাগরে অবতরণের পর উদ্ধারকারী দলকে ক্যাপসুলটি পর্যাপ্ত ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

খবর নিশ্চিত করেছে নাসা, বায়ুদাহচাপ ও তাপ ক্যাপসুলের ভিতরে থাকা নভোচারীদের স্পর্শ করেনি। সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং দ্রুততর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তারা নৌবাহিনীর জাহাজে রাত কাটিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার তাঁরা টেক্সাসের হিউস্টনে তাঁদের পরিবার ও মিশন দলের সঙ্গে মিলিত হবেন।

নাসার ইউটিউব চ্যানেলে অভিযানকালের ও অবতরণের সরাসরি চিত্র ও ফুটেজ দেখেছে প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ। উদ্ধারকারী ও সহায়তা তৎপরতায় যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।

আর্টেমিস-২ শুধুই একটি পরীক্ষামূলক সফরই নয়—এটি নাসার ধরে নেয়া ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক মিশন। মিশনটি অ্যাপোলো যুগের পর থেকে চন্দ্রাভিযানের ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশিষ্ট একটি দিক হলো, আর্টেমিস-২ পূর্বের অ্যাপোলো-১৩ এর রেকর্ড ভেঙে মোট ২৫২,৭৫৬ মাইল ভ্রমণ করে নতুন দূরত্বরেকর্ড গড়ে দিয়েছে (অ্যাপোলো-১৩ ছিল প্রায় ২৪৮,০০০ মাইল)।

অভিযানের শেষ দিকে মিশনের কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান রেডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন, ‘‘আমরা আমাদের ২ নম্বর জানালা দিয়ে চাঁদের একটি অসাধারণ দৃশ্য দেখেছি—গতকালের তুলনায় একটু ছোট মনে হলো। মনে হচ্ছে ফিরে যেতে হবে।’’

সূত্র : রয়টার্স