রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বিপাশা হায়াত

নব্বইয়ের দিকের সুপরিচিত অভিনেত্রী, মঞ্চশিল্পী ও নাট্যকার বিপাশা হায়াত শিল্পজীবনে বহু ধারায় কাজ করে দর্শকদের মন জয় করেছেন। মঞ্চ থেকে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমেই তার সাবলীল উপস্থিতি লক্ষণীয়।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে গিয়ে একটি পডকাস্টে সাক্ষাৎকার দেন বিপাশা। ওই আলাপে অভিনয়জীবন নিয়ে নানা কাণ্ডকারখানা তুলে ধরার পাশাপাশি বলিউডে প্রস্তাব পাওয়া ও সেটি প্রত্যাখ্যানের পেছনের কারণ নিয়েও বিস্তারিত জানান তিনি।

সঞ্চালকের প্রশ্ন ছিল—‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সময়টাতে কি বলিউড থেকেও প্রস্তাব পেয়েছিলেন কি? জবাবে বিপাশা বলেন, বলিউডের প্রস্তাবটি এত আগের নয়, তার পরের সময়েই এসেছে। এই প্রস্তাবটি ছিল এক ধরনের পার্শ্বচরিত্রের পথ—যখন ফোন করে প্রস্তাবটি জানানো হয়েছিল, তার ফোন নম্বরটি এখনো তার ফোনে সেভ আছে এবং সেই ব্যক্তির সঙ্গে কয়েকবার কথাও হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে নির্দিষ্ট সিনেমার নাম তিনি স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেননি।

বলিউড প্রস্তাব কেন ফিরিয়েছিলেন—এই প্রশ্নের উত্তরে বিপাশা বলেন, তখন তার মনে হয়েছিল তিনি কখনোই নিজের দেশের মানুষকে ছোট করতে পারবেন না। ‘‘আমার দর্শক আমাকে যেভাবে গ্রহণ করেছেন, তাদের ভালোবাসা আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। ওখানে গিয়ে কোনো তুচ্ছ চরিত্রে অভিনয় করে যদি কেউ ভাবেন আমি দেশকে হেয় করছি, সেটা আমি চাইব না,’’ তিনি বলেন।

তিনি আরও বলেন, নিজেকে তিনি একে ‘‘তারকা’’ হিসেবে না দেখে ‘‘পাবলিক ফিগার’’ মনে করেন। একটি পাবলিক ফিগার হওয়ার সঙ্গে বড় ধরনের দায়িত্ব জড়িয়ে থাকে, এবং প্রতিটি কাজের মাধ্যমে সেই দায়িত্ববোধ বজায় রাখতে হবে—এটাই তার ব্যক্তিগত নীতি। মানুষের ভালোবাসাকে তিনি অত্যন্ত পবিত্র ও মূল্যবান হিসেবে দেখেন এবং সেই ভালোবাসার দায় নিহিত করেই বিদেশি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার মতে, পৃথিবীতে নানা বিরোধ ও সহিংসতার মূল কারণ ভালোবাসার অভাব; তাই মানুষের ভালোবাসা রক্ষা করাই তার নীতিগত সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

সংক্ষিপ্ত কথায়, বিপাশা হায়াতের সিদ্ধান্ত ছিল আত্মসম্মান, দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা ও পাবলিক ফিগার হিসেবে দায়িত্ববোধ বজায় রাখা—এই তিনটি কারণ থেকেই তিনি বলিউড প্রস্তাব বাজেয়াপ্ত করেননি।