ঢাকা ভারতকে আবারও অনুরোধ করেছে—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি এসব কথা বলেছেন শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসের পোর্ট লুইসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের কথাও আভাস দেন। এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
খলিলুর রহমান জানান, চলতি সপ্তাহে (৮ এপ্রিল) দিল্লি সফরে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে, তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমরা আগেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছি এবং এই সফরে আমরা সেই দাবিটি পুনরাবৃত্তি করেছি।’’ তবে কৌশলগত কারণে আলোচনার সব বিশদ এখনই প্রকাশ করেননি তিনি।
প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-আন্দোলনের পরে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন এবং দিল্লিতে অবস্থান করছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ভারত সরকারের বিবেচনাধীন।
সূত্রানুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে খলিলুরের দিল্লি সফরের কয়েক দিন পর বাংলাদেশ সরকার নির্দেশিকাভাবে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়—যাতে বলা হয়, বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত প্রত্যর্পণের অনুরোধটি ভারতের নিজস্ব বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে এবং ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর সম্পর্কে খলিলুর বলেন, ‘‘সফরটি অবশ্যই হবে, তবে এখনই তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি। আগামি কয়েক সপ্তাহে এই সফরের প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হবে।’ তিনি আরও জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে চিঠি আদান-প্রদান করেছেন এবং টেলিফোনে কথা বলেছেন; উভয় পক্ষই সম্পর্ককে এগিয়ে নেবার ব্যাপারে জোর দিনছেন।
দিল্লির বৈঠকে বাংলাদেশ সীমিত হারায় কার্যরত ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর অনুরোধ করেছে বলে খলিলুর জানান। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় ভারতীয় সহযোগিতার আবেদনও করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘এই সংকট আরও জটিল হতে পারে। ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটের মতো এটি উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে—এই সমস্যার সম্মুখীন হলে আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’’
খলিলুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এ বছর বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে আঞ্চলিক এই জোটকে সক্রিয় করতে আগ্রহী। পাশাপাশি দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সার্ক সম্মেলন পুনরায় শুরু করার কথাও তিনি বলেছেন—যদি সদস্য দেশগুলো অংশ নেয়ার কারণগুলো দূর করা যায়, তবে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাধা থাকার কথা নয়।
খলিলুর দিল্লির বৈঠকগুলো নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পর্কের অগ্রযাত্রা দেখা যাবে বলে আমি নিশ্চিত।’’





