জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছে, শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে নজিরবিহীনভাবে ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল ও প্রতিপক্ষের কর্মীদের ওপর সশস্ত্র ও অপপ্রবৃত্ত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব অনিয়মের কারণে বিএনপি নিজ দলীয়ভাবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে যে, ফলত আওয়ামী লীগও প্রভাবিত হয়েছে—এমন বক্তব্য দাঁড় করান তিনি।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব অভিযোগ জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এই সমাবেশটি শেরপুর ও বগুড়া উপনির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদ ও ফলাফল বাতিলের দাবি জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল।
গণভোট নিয়ে তিনি বিএনপিকে কড়া আক্রমণ করে বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল তারা গণভোটের ফল মেনে নেবে; কিন্তু এখন সরকার গঠন করলে তারা গণভোটের সিদ্ধান্তই বাতিল করার চেষ্টা করছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিএনপির এই দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা, শহীদদের ত্যাগেরও প্রতি অসমান্যতা।’
তিনি আরও বলেন, শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে যা ঘটেছে তা আগের তচকে-নাম করা কুচক্রী পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি—বিবিধ জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল ও প্রতিদ্বন্দ্বীর অনুগত কর্মীদের ওপর নির্যাতনের ছবি মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নিরীক্ষণের দাবি করে দেশবাসীর সঙ্গে তামাশা করেছে।
বিএনপিকে সতর্ক করে মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, জনগণের আস্থা ও সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়; যদি ক্ষমতায় থাকতে চান তবে দলেরাই প্রথমে চলমান রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও সমাধান করবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, কামরুল আহসান হাসান, আবদুস সাত্তার সুমন ও আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।
জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড়- বিজয়নগর গোলচত্বর পর্যন্ত সম্পন্ন হয়। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় থেকে বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নেওয়ার দাবি উচ্চারণ করেন।





