বাংলাদেশ ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি পুনরায় তুলেছে—এমনটাই জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসের পোর্ট লুইসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের কথাও আভাস দেন। এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
খলিলুর রহমান জানান, চলতি সপ্তাহে দিল্লি সফরে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এসময় বাংলাদেশ existing প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনরায় জানিয়েছে। কৌশলগত কারণে বৈঠকের সব বিস্তারিত তথ্য তিনি এখনই প্রকাশ করেননি।
২০১৪ সালের নয়—(মেটা-টেক্সট বাদ) ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-আন্দোলনের পরে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন এবং বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া বর্তমানে ভারত সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী) খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরের কয়েক দিন পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে বলা হয়, দেশের আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাদের প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছিল।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তখন একটি বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণের অনুরোধটি বর্তমানে ভারতের নিজস্ব বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘তরিকের ভারত সফর অবশ্যই হবে, তবে এখনও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। আগামী কয়েক সপ্তাহে সফরের প্রস্তুতির জন্য নানা কর্মসূচি নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা ইতোমধ্যেই চিঠি আদান-প্রদান ও টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং উভয়পক্ষই সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।
খলিলুর দিল্লির বৈঠকগুলোকে নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা সম্পর্কের অগ্রযাত্রা দেখতে পাবো বলে আশা করছি।’ তিনি আরও জানান, বৈঠকে ভারত কর্তৃক গত এক বছর ধরে সীমিত করা ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় ভারতের সহায়তা চাওয়াও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সংকট আরও জটিল রূপ নিলে ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটের মতো উন্নয়নের গতিকে ধাক্কা দিতে পারে, তাই এ সমস্যার বিরুদ্ধে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সমন্বিতভাবে 대응 করা জরুরি।
এ বছর বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংগঠনটিকে সক্রিয় করার আগ্রহ দেখাচ্ছে—এও জানিয়ে দেন খলিলুর। পাশাপাশি দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সার্ক সম্মেলন পুনরায় শুরু করার ওপর তিনি জোর দেন। খলিলুর বলেন, ‘যদি আমরা সবাই মিলে কাজ করি এবং যেসব কারণে কিছু দেশ অংশ নিতে অনিচ্ছুক—সেই কারণগুলো দূর করতে পারি, তবে সার্ক সম্মেলনে কোনো বাধা থাকার কথা নেই; এটি মূলত অন্যদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়।’





