জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে এক ধরনের স্বৈরাচারী শাসন চালাচ্ছে। তিনি এটিকে কার্যত একটি নতুন ফ্যাসিবাদামূলক দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা অলিখিত বাকশালের মতোই বলিষ্ঠ এবং চাপের মাধ্যমে সভ্যতা ও গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, অন্তরীপে বর্তমানে চালু স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পরেও সংশ্লিষ্ট দমনমূলক নীতি অব্যাহত রয়েছে। এই ধরণের অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য তিনি সরকারকে জরুরি সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন, অন্যথায় আরও কঠোর বিপদ দেখা দিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন। জামায়াতের এই নেতা গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে সংসদে অধিবেশনশেষে সংসদ মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি গুমের প্রতিরোধ, বিচার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত বিলগুলো পাসের বিরোধিতা করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন। শফিকুর রহমান জানান, আজকের অধিবেশনে এমন কিছু জনবিরোধী বিল উত্থাপন করা হয়, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের Hak ও অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। বিরোধী দল তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিতে গেলে সংসদে তাদের কথা শোনার সুযোগ কমিয়ে দেওয়া হয়। মন্ত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বললেও বিরোধীদের জন্য নির্ধারিত সময় কয়েক মিনিটের বেশি রাখা হয় না, যা সাংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধের এক অপপ্রয়াস। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাইলেও বর্তমান সরকার এমন বিল পাস করছে, যা দিয়ে বিচারক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের হাতে চলে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিচার বিভাগ কিছুটা স্বাধীন ছিল, তা বর্তমান সরকার বাতিল করে পুরনো ব্যাবস্থায় ফিরছে। এর ফলে বিচার বিভাগের ওপর সরকারের অপ্রতিরোধ্য হস্তক্ষেপ স্পষ্ট হচ্ছে, যা অতীতে বিচারপতি খায়রুল হক ও মানিকের মতো বিচারকদের দলীয়ভাবে নিয়োগ দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছিল। স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দমনমূলক পরিস্থিতি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে অংগীসভার প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ভেঙে দেয়া হচ্ছে। বিএনপি তার ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনায় স্পষ্ট করে বলেছিল, নিরপেক্ষ পরিস্থিতি ছাড়া প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। কিন্তু বর্তমান সরকার অযৌক্তিক কারণ ছাড়া সব স্তরে দলীয়করণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। এদিন শেরপুর ও বগুড়ায় অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেন জামায়াতের এই নেতা, তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালের মাগুরার নির্বাচন যখন কলঙ্কজনক হয়ে ছিল, আজ শেরপুর ও বগুড়ার নির্বাচনে তেমনই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে। এই নির্বাচনও একটি নিঃসন্দেহে দুর্নীতিপূর্ণ ও অপ্রতুল বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই নির্বাচনে দলের কর্মী খুনের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমাদের একজন কর্মী হত্যা করা হয়েছে, আরেকজনের সুস্থতার জন্য দোষীদের দ্রুত শাস্তি দাবি করেন। ডা. শফিকুর রহমান আশ্বাস দেন যে, তারা সংসদে যাবে ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে কথা বলবে। তবে যদি জনস্বার্থবিরোধী কোন আইন পাস হয়, তারা প্রতিবাদে গর্জে উঠবে। তিনি বলেন, জনগণ অতীতে ফ্যাসিবাদ ও বাকশাল রুখে দিয়েছে, ভবিষ্যতেও যদি কেউ আবার এমন করার অপচেষ্টা করে, জনগণের সঙ্গে নিয়ে তার বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়ানো হবে ইনশাআল্লাহ। এই সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন শীর্ষ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।





