সোমবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরানে ইসরায়েলের অভিযান এখনও শেষ হয়নি বললেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এখনো শেষ হয়নি, যদিও বর্তমানে বিরতি অবস্থায় রয়েছে। তিনি এই কথা জানান গতকাল শনিবার, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈঠকের সময়ে একটি ভিডিওবার্তায়। নেতানিয়াহু হিব্রুভাষায় বলেছেন, “আমাদের এখনও অনেক কিছু করার আছে। তবে এখন পর্যন্ত যা অর্জিত হয়েছে, তা ঐতিহাসিক.”

তিনি ভিডিওবার্তায় ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর কারণ এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে হত্যার পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। নেতানিয়াহু বললেন, “ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তারা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। যদি এই অস্ত্র তৈরি করতে পারত, তবে প্রতিদিন শত শত পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারত, যা আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতো।”

তিনি আরও বলেন, “(আয়াতুল্লাহ) খামেনি চেয়েছিলেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু বোমা প্রকল্পগুলোকে মাটির নিচে গভীর পরিবেশে স্থানান্তর করা হয়, যেন মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ বি-২ এর নাগাল না পায়। এই পরিস্থিতিতে আমরা চুপচাপ বসে থাকতে পারিনি।”

উল্লেখ্য, দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এ প্রসঙ্গে ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ২১ দিন রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। কিন্তু সেই আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু হয়, একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে নিজেদের অস্ত্রোপচার চালায়। এই যুদ্ধের প্রারম্ভে ইরানের উচ্চ পদস্থ নেতা আয়তুল্লাহ খামেনি নিহত হন। তার স্ত্রী, কন্যা ও নাতি আহত হন বা নিহত হন।

সোমবারের একটি কূটনৈতিক উদ্যোগে, ৭ এপ্রিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। তারপর ১১ এপ্রিল দুই দেশের সরকারী প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনাসঙ্গের বৈঠক হয়, যা কোনও চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।

শনিবারের ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু আরও ঘোষণা করেন, “ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইতোমধ্যেই ইরানে অনেক সফলতা অর্জন করেছে, এবং সামনে আরও সাফল্য অর্জন করতে চায়। ইরানে এখনও ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথায়, ইসরায়েল সমর্থন করে। ট্রাম্প বলেছিলেন, অথবা তারা চুক্তিতে এসে এই উপাদান সরিয়ে ফেলবে, আর না হলে অন্য উপায়ে তা অপসারণ করা হবে।”

সূত্র: বিবিসি, এএফপি