ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জ্বালানি সঙ্কটের সুযোগে তেল ঘ ALS করার দুর্বৃত্তচক্র ঠেকাতে চালু করা হয়েছে ‘স্মার্ট ফুয়েল’ অ্যাপ। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একই বাইকার যতবারই তেল নিতে চাইলেই তা শনাক্ত করা যাচ্ছে, ফলে ভিড়, অনিয়ম ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।
বর্তমানে অ্যাপটি উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। এটি প্রথমবারের মতো ৭ এপ্রিল কোটচাঁদপুর সড়কের একটি ফিলিং স্টেশনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের উপস্থিতিতে চালু করা হয়। পরে দ্রুত অন্যান্য স্টেশনেও এটি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
অ্যাপটির মাধ্যমে প্রতিটি মোটরসাইকেলের নাম্বার প্লেট স্ক্যান করে সেই তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। নাম্বার প্লেট না থাকলে ভিন্নভাবে ইঞ্জিন নাম্বারের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বাইকারকে নির্দিষ্টভাবে ৫০০ টাকা মূল্যের পেট্রোল বা অকটেন দেওয়া হচ্ছে এবং একবার তেল নেওয়ার পর ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পুনরায় তেল নেওয়া যাবে না। এই মেয়াদে কেউ আবার তেল নিতে গেলে স্ক্যানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সতর্কতা আসে এবং অনিয়ম ধরা পড়ে।
অ্যাপ চালু হওয়ার ফলে ইতোমধ্যে শতাধিক বাইকারকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা একাধিকবার তেল নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে; একই আচরণ পুনরাবৃত্তি হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, আগের দিনে বাইকাররা একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করত এবং তা মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করত। অনেক সময় লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়াতে হত তবুও তেল পাওয়া যেত না। এমনকি তেল নিয়ে বিবাদ-হানাহানি এবং সাংবাদিকরাও হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। এখন এসব সমস্যা অনেকটাই কমেছে।
একজন বাইকার রাশেদ হোসেন বলেন, “আগে ঘণ্টা কাটলেও তেল পাওয়া যেত না, ভোগান্তি ছিল। এখন অ্যাপের কারণে দ্রুত তেল পাওয়া যাচ্ছে, ঝামেলা কমেছে।” অন্য বাইকার সুমন আলী বলেন, “কেউ মজুদ করে নিয়ে গেলে আমরা সমস্যায় পড়তাম। স্মার্ট অ্যাপ সেই সুযোগটুকু বন্ধ করে দিয়েছে, খুবই ভালো উদ্যোগ।”
অ্যাপটির উদ্ভাবক ও স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা শেখ ওবায়দুল হক রাসেল বলেন, জ্বালানি সঙ্কটের সময় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং অসাধু চক্রকে প্রতিরোধ করতেই এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, প্রযুক্তি দিয়ে স্বচ্ছতা আনার মাধ্যমে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ জানান, অ্যাপ চালু হওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে এবং প্রশাসন নিয়মিতভাবে মনিটরিং করছে। বৈধ কাগজপত্র থাকলেই তেল দেওয়া হবে, নইলে দেওয়া হবে না এবং জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে তিনি জানান।
এসব পরিবর্তনের ফলে কালীগঞ্জের সাধারণ মানুষ এখন তুলনামূলকভাবে স্বস্তিতে তেল পাচ্ছে এবং তেলবঞ্চনার কারণে সৃষ্ট অনিয়মগুলো ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে।





