পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ নিশ্চিত করেছেন যে হরমুজ প্রণালিতে কোনও বাংলাদেশি জাহাজ আটকে রাখা হবে না। তিনি রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানান, ইরান আশ্বস্ত করেছে যদি কোনো বাংলাদেশি জাহাজ আটকে পড়ে তাহলে তা দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের আয়োজন করায় পাকিস্তানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি। শামা ওবায়েদ সতর্ক করে বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনায় ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় তবে তার নেতিবাচক প্রভাব পরে সব দেশকেই মুখোমুখি হতে হবে।
সরকার যুদ্ধাবস্থায় জ্বালানি সংকট এড়াতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটের মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরামর্শ ও পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে দেশ ন্যূনতম ঝুঁকিতে থাকে।
একই সময় তিনি জানান, যেসব বাংলাদেশি নাগরিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে ফিরে আসতে চান, তাদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি হামলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লেবাননে বাংলাদেশের মিশনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নামে একটি বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ওই জাহাজটি ইরানি কর্তৃপক্ষ আটক করার অভিযোগ ওঠে, যা নতুন করে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলে উদ্বেগ উত্থাপন করেছিল।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন এবং প্রণালিতে প্রবেশ বা বাহিরের চেষ্টা করা যে কোনো জাহাজকে আটকে রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীর নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান। ফলে ইরান যদি বাধা না দেয় তবুও বর্তমানে হরমুজে বাংলাদেশের জাহাজগুলো নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।





