মঙ্গলবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সৌদি আরবের হজ ভিসা বাধ্যতামূলক, অন্য ভিসায় হজ নেই অনুমোদন

পবিত্র হজ সম্পন্ন করার জন্য শুধুমাত্র ‘হজ ভিসা’ গ্রহণ করাই বৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, হজের জন্য অন্য কোনো ভিসা— যেমন ভিজিট, ট্রানজিট, ওমরাহ বা ট্যুরিস্ট ভিসা—বৈধ নয়। ফলে, এসব ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে অবস্থান করলেও হজের আনুষ্ঠানিকতা অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ থাকবে না। প্রবাসী ও সৌদি নাগরিকদের জন্য নিয়ম কিছুটা ভিন্ন; তাদেরও ‘নুসুক’ অ্যাপের মাধ্যমে পারমিট সংগ্রহ করতে হবে।

সৌদি গেজেটের রিপোর্ট অনুযায়ী, হজের সময় ভিজিট বা ট্যুরিস্ট ভিসাধারীদের হজে অংশ নেওয়ার অনুমতি নেই। মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, সকল হজ বুকিং ও রিজার্ভেশন শুধুমাত্র মান্য ও অনুমোদিত মাধ্যমগুলো দিয়েই করতে হবে। অন্য কোনো অননুমোদিত বা ভুয়া চ্যানেলের মাধ্যমে হজের বুকিং সম্পন্ন না করার জন্য কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রতি বছরই অসাধু সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অবৈধ হজে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়, যা রোধে এ ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন।

এদিকে, বাংলাদেশ থেকে এই বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটের সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল রাত ২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশে ছুটতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী এবারের হজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং এতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশি-বিদেশি আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

সৌদি আরবের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ভিসা না থাকলে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, যার ফলে আইনি জটিলতা ও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও এসব নিয়মের প্রতিপালন জরুরি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে, পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য এয়ারলাইন্সও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে। এই সব উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানে হজের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবহণ নিশ্চিতের লক্ষ্য রয়েছে।