নারী ক্রিকেটে আরেকটি বড় মাইলফলক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সামনে এনে দিয়েছে আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য রেকর্ড প্রাইজমানি, যা আগের আসরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি — এই সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটে বাড়তি বিনিয়োগ ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ বলে জানানো হয়েছে।
আইসিসি ঘোষণা করেছে যে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্টের মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮,৭৬৪,৬১৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ১০৮ কোটি বাংলাদেশি টাকা)। তুলনায় ২০২৪ সালের আসরে মোট ছিল প্রায় ৭,৯৫৮,০০০ ডলার — এবারের বৃদ্ধি আনুমানিক ১০ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থের এই বাড়তি অংশ দেখাচ্ছে যে নারী ক্রিকেট এখন কেবল ক্রীড়া নয়, ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রাইজমানির বিশদ ছাড়াও প্রতিযোগিতা থেকে খেলোয়াড় ও দলের লাভ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২৩৪০০০০ ডলার (প্রায় ৩০ কোটি টাকা), রানার্স-আপ দল পাবে ১১৭০০০০ ডলার (প্রায় ১৫ কোটি টাকা) এবং সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল প্রতিযোগিতামূলকভাবে ৬৭৫০০০ ডলার (প্রায় ৯ কোটি টাকা) করে পাবেন। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য দলগুলো পাবে ৩১,১৫৪ ডলার (প্রায় ৪০ লাখ টাকা) এবং প্রতিটি অংশগ্রহণকারী ১২টি দলই ন্যূনতম ২৪৭,৫০০ ডলার (প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা) নিশ্চিতভাবে পাবে।
এই আসরে আরও একটি বড় পরিবর্তন হলো দলের সংখ্যা বাড়ানো — প্রথমবারের মতো ১২টি দল অংশ নেবে, যা স্কেলে ও প্রতিযোগিতার তীব্রতা দুটোই বাড়াবে। আগের আসরগুলোতে তুলনায় বেশি দলের থাকার ফলে অধিক দেশের নারী ক্রিকেটাররা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিভা দেখাবার সুযোগ পাবেন এবং ম্যাচগুলোর ধরন আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে।
আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা বলেন, “নারী ক্রিকেটের বিকাশ গত কয়েক বছরে দ্রুত গতিতে বেড়েছে। দলসংখ্যা বাড়ানো এবং রেকর্ড প্রাইজমানি আমাদের বৈশ্বিক ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী, সমতাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক করার প্রতিফলন। বিনিয়োগ বাড়লে পেশাদারিত্ব, প্রশিক্ষণ ও তরুণ প্রতিভা বিকাশে বড় সুবিধা হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে এই বিশ্বকাপ দর্শকসংখ্যা, টিভি ও স্ট্রিমিং সম্প্রচার এবং ভক্ত আকর্ষণে নতুন রেকর্ড তৈরি করবে।
টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বাড়াতে আইসিসি ইতিমধ্যে ট্রফি ট্যুরও শুরু করেছে। লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ট্রফি প্রদর্শনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়ে সেটি নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড সফর করবে। মে মাস জুড়ে ইংল্যান্ডের লিডস, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, সাউথ্যাম্পটন ও লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে ভক্তরা ট্রফি দেখার সুযোগ পাবেন — এভাবে টুর্নামেন্টের ব্যাপক আগ্রহ ও অংশগ্রহণ তৈরির প্রচেষ্টা চলছে।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ নির্ধারিত হয়েছে ১২ জুন ২০২৬-এ; ওপেনিং ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। মোট ৩৩টি ম্যাচ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। আইসিসি ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আশা করছে যে রেকর্ড প্রাইজমানি ও সম্প্রসারিত দলসংখ্যা মিলে নারী ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, যা ভবিষ্যতে তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করবে এবং উপস্থিতি ও সম্প্রচারে বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে।





