বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, যদি সংস্কার পরিষদ গঠন না করা হয় তাহলে তার পরিণতি বিএনপি সরকারকে ভোগ করতে হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য ‘‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশে দুইটি বড় প্রশ্ন উত্থিত হয়েছিল। ছাত্র আন্দোলন বৈষম্যবিরোধী দাবিতে ফ্যাসিবাদের বিলোপ চেয়েছিল, বিএনপি তখন নির্বাচনের পক্ষে ছিল, আর আমরা গণপরিষদ (রিসোর্ট) করে বাস্তব সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলাম। পরে বিএনপি সংস্কার আলোচনায় অংশগ্রহণ করলে আমরা গণপরিষদের বদলে ‘সংস্কার পরিষদ’ এর মাধ্যমে সমাধান মেনে নিয়েছি।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি বর্তমানে কৃত্রিম বিরোধ সৃষ্টি করছে এবং ‘‘জুলাই সনদ’’ ও ‘‘জুলাই আদেশ’’ আলাদা করার চেষ্টা করছে। বিএনপি জুলাই সনদকে নিজের দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছে; এজন্যই গণভোটের প্রশ্ন উঠে এসেছে। নাহিদ বলেন, সংবিধানের মূল কাঠামো ফ্রেমওয়ার্কের ভেতরে বদলানো সম্ভব নয়—এই কারণে গাঠনিক ক্ষমতা সংস্কারের জন্য সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব এসেছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় এসব বিষয়ে বিএনপি সম্মতি দিয়েছে, কিন্তু পরে তারা কথার ব্যতিক্রম করেছে এবং গণভোটের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করেছে।
গণভোটের গণরায় প্রত্যাখ্যান করলে তার পুণরাবৃত্তি সরকারের জন্য কঠিন পরিণতি বয়ে আনবে জানান চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এখন আমাদের যুদ্ধ পরিস্থতির মতো পরিস্থিতি নিয়েও ভাবতে হবে—জাতীয় স্বার্থ কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে সুরক্ষিত করা হবে, বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করা যাবে কীভাবে এবং জ্বালানি সংকটের সমাধান কীভাবে করা হবে—এসব বিষয়ে আন্তরিক আলোচনা দরকার। নাহিদ আরও অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছর ধরে যে সংস্কারের কথা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আলোচনাও দীর্ঘায়িত হয়েছে, তবুও বাস্তবায়ন হয়নি; ফলে জাতিকে এই দুর্যোগে ফেলে দিয়েছে বিএনপি, এবং বিএনপিকেই এর দায়ভার ও পরিণতি ভোগ করতে হবে।
সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারকে বলেন, দ্রুত সংবিধানভিত্তিক সংস্কার পরিষদ গড়ে তোলা প্রয়োজন যাতে এই সংকট নিরসন করা যায় এবং জাতীয় ঐক্য রক্ষা করা যায়। নাহিদ সতর্ক করে বলেন, না হলে এর পরিণতি আপনাদের ভোগ করতে হবে।
সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল ওলি আহমদ, জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।





