বুধবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পিএসএল ছাড়ায় ব্লেইজ মুজারাবানিকে দুই বছর নিষিদ্ধ

পাকিস্তান সুপার লিগ(পিএসএল) ছেড়ে আইপিএলে খেলতে যাওয়ার কারণে জিম্বাবুয়ের ফাস্ট বোলার ব্লেইজ মুজারাবানিকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে পিএসএল কর্তৃপক্ষ। লিগের প্রসঙ্গে পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার কঠোর ভঙ্গ হিসেবে পিএসএল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পিএসএল এক বিবৃতিতে বলেছে, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগগুলোতে পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো খেলোয়াড় যদি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকতে অবস্থায় মাঝপথে অন্য লিগে চলে যান, তাহলে তা পেশাদারি আচরণের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে। পিএসএল দাবি করেছে, মুজারাবানির এই সিদ্ধান্ত ও আচরণবিধি ভাঙা ছিল, তাই দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের নিলাম পর্বে মুজারাবানি শুরুতে কোনো দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন না। পরে তিনি ইসলামাবাদ ইউনাইটেডে শামার জোসেফের পরিবর্তে দলে সুযোগ পান। তবে এরপরই আইপিএলে সুযোগ পেয়ে পিএসএল ছেড়ে চলে যান। সূত্র বলছে, কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকে আর) তাকে নিয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানের বিকল্প হিসেবে; জানুয়ারিতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনায় মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং মুজারাবানিকে কেকেআর নেয়।

আইপিএলে মুজারাবানি এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচ খেলেছেন। তার ইকোনমি ১০.৭১ এবং মোট চার উইকেট আছে—যা সবই এক ম্যাচে এসেছে। ২ এপ্রিল ইডেন গার্ডেনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে তিনি ৪ ওভারে ৪১ রান খেয়ে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। তবু দল হিসেবে কলকাতা নাইট রাইডার্স টুর্নামেন্টে নীচে রয়েছে; চার ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় মুকাবেলায় তারা চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে জয়ের খোঁজে নামবে; ম্যাচটি চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

এই ঘটনায় পিএসএল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নতুন নয়। এর আগেও দক্ষিণ আফ্রিকার করবিন বশকে এক বছর দেওয়া হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা। গত বছর পেশোয়ার জালমি তাকে নিয়েছিল, কিন্তু পরে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস লিজাড উইলিয়ামসের বিকল্প হিসেবে বশকে নেওয়ায় তাকে পিএসএল থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।

মুজারাবানির পাশাপাশি এবারে স্পেনসার জনসন ও দাসুন শানাকাও পিএসএল ছেড়ে আইপিএলে যোগ দিয়েছেন। তবে শানাকা ও জনসনের বিরুদ্ধে পিএসএলের সিদ্ধান্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

পিএসএল কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগগুলোর সম্মান বজায় রাখতে এ ধরনের আচরণ প্রতিরোধে তারা কঠোর রূপরেখা অনুসরণ করবে।