যশোরে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর শুরু হওয়া লঘুচাপের তীব্র ঝড় ও বজ্রপাতে দুই জন নিহত হয়েছেন এবং জেলার অনেক গ্রামে বিদ্যুৎversorgung (বিচ্ছিন্ন) হয়েছে। টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী এই ঝড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং বসতঘর, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন কষ্টকর ছিল। দুপুরের পর কালো মেঘ গর্জন করে আকাশ ঢেকে যায় এবং মুহূর্তেই বেগবান বাতাস, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। ঝড়ের সময় চৌগাছার আন্দুলিয়া গ্রামে আবু তাহের বজ্রপাতে নিহত হন। মনিরামপুরের শাহাপুরে মাঠে যাওয়ার পথে লুৎফর রহমান সরদার বজ্রপাতে মারা যান।
ঝড়ের প্রভাব বেশ কয়েকটি উপজেলায় অনুভূত হয়েছে। মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা অঞ্চলে গাছ উপড়ে পড়েছে, অনেক বাড়ির চালের টিন উড়ে গেছে এবং একাধিক জায়গায় গাছ চাপা পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইনে আঘাত লেগেছে। ওই এলাকায়সহ ঝাঁপা, হরিহরনগর ও রাজগঞ্জে এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে।
কেশবপুরেও ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসল নড়বড়ে হয়েছে; অনেক স্থানে গাছ নাড়ে পড়েছে ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পেছনে পড়েছে, ফলে অসংখ্য এলাকায় তার ছিঁড়ে গেছে। কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝড়ে আহত ৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন; তাদের মধ্যে দুই জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, কেশবপুরে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির বোরো ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাত ৮টা পর্যন্ত ওই উপজেলার অনেক ইউনিয়নে বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন সম্ভব হয়নি। দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, মাদ্রাসার ছাদে গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এবং এলাকার কৃষক-চাষিরা ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে; বিভিন্ন জায়গায় গাছপালার ভাঙনে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, যশোরে সামগ্রিকভাবে ব্যাপক ফসলহানি হয়নি, কিছু কিছু জায়গায় বোরো ধান হেলে পড়েছে—তবে মোটামুটি ১৬ মিলিমিটার পরিমাণ বৃষ্টিপাত ধানের জন্য আশীর্বাদ হিসেবেই দেখতে পারেন। তারপরও স্থানীয় ক্ষতি থাকলে কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সাহায্য-পরামর্শ দেওয়া হবে।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান জানিয়েছেন, বৈশাখী ঝড়ে মনিরামপুর ও কেশবপুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে; এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৬টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং অনেক জায়গায় লাইনের ওপর গাছ পড়ে রয়েছে। তাদের কর্মীরা রাতেও লাইন মেরামতের কাজ করছেন, তবে সব স্থানে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা সম্ভব নয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার সময় পর্যন্ত হাসপাতালে আনা রোগীদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন স্থানে ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির ছক তৈরি করা হচ্ছে; স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ও ত্রাণসামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও জনসাধারণকে নিরাপদে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জরুরি অবস্থায় জনগণকে বিজ্ঞপ্তি মেনে চলতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে না থাকতে বলা হয়েছে।





