মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে সতর্ক করল পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চলাকালীন পাকিস্তান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জনসমক্ষে আক্রমণাত্মক বা জুলুমি ভাষা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে ইসলামাবাদ থেকে ট্রাম্পের কাছে এই বার্তা পৌঁছানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান এই আলোচনা সফল করতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় কাজ করছে। মধ্যস্থতা কার্যক্রমকে সফল করতে ট্রাম্পকে সংযত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে আলোচনার পরিবেশ উত্তেজনাহীন রাখা যায়।

রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন পাকিস্তান কর্মকর্তা বলেন, তারা ইরানের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী এক-दুই দিনের মধ্যে ইরানের প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নেবে। সূত্রটি জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে পাকিস্তান নিবিড় যোগাযোগ রাখছে, বিশেষ করে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এই যোগাযোগে জোর দেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে ট্রাম্প বারবার বলেছেন যে তিনি আলোচনায় তাড়াহুড়ো করবেন না, তবু একই সঙ্গে দাবি করছেন দ্রুত একটি চূড়ান্ত চুক্তি হবে এবং তা ২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তির চাইতেও ভালো হবে। তিনি বলেছেন, ইরান নিয়ন্ত্রণশূন্য হলে দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা ত্যাগ করতেই হবে এবং এই বিষয়ে কোনো ছাড় হবে না। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং যদি চুক্তি না হয়, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যেন অবরোধ প্রত্যাহার না করে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তান ও রাশিয়ার সঙ্গে ফোনালাপে মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধপূর্ণ ও অবৈধ আচরণ কূটনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সব মিলিয়ে কূটনৈতিক চেষ্টাগুলো তীব্র তবে সংবেদনশীল অবস্থায়—পাকিস্তান মধ্যস্থতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নরম করার চেষ্টা করছে, আর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার ফল কী হবে তাতে বিশ্ব জুড়ে নজর আছে।