বুধবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব নিয়ে আত্মসমালোচনায় তাসনিম জারা

তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। এতে অনেক তরুণ নারী নেতৃত্ব তাদের স্থান পেয়েছেন। তবে এই আসনের জন্য প্রস্তাব পানেও তা ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। মঙ্গলবার বিকেল ৭টা ২৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি একটি পোস্টে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। পোস্টে তিনি কোনও দল থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কি না, সে ব্যাপারে স্পষ্ট করেননি।

তাসনিম জারা বলেন, আজ ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়। অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী দুঃখ প্রকাশ করে, সহানুভূতি জানিয়ে মনে করেছে আমি সংসদে থাকছি না। তিনি বলেন, আপনাদের ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। সংরক্ষিত আসনে যাওয়ার জন্য আমাকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, তবে আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তা ফিরিয়ে দিয়েছি।

তিনি যুক্ত করেন, সংসদে গিয়ে মানুষের স্বার্থের পক্ষে কথা বলার এই সুযোগ আমি সহজে ছেড়ে দিতে পারিনি। তবে আমি ঐকমত্যে জানিয়েছিলাম যে, সংরক্ষিত নারী আসন থাকা উচিত, তবে সেটি সরকারি দার্থে ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। এর পক্ষে আমি যুক্তি দিয়েছি, ক্যাম্পেইন করেছি এবং স্বাক্ষরও সংগ্রহ করেছি। তবে এমপি হওয়ার কোনও প্রস্তাব তার পর পরিবর্তিত অবস্থানে যাওয়াটা আমার জন্য সম্ভব হয়নি। আমি যে প্রার্থীরা সংসদে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য আমি শুভকামনা জানাই।

তাসনিম জারা বলেন, আমি মূলত সিস্টেম নিয়ে কথা বলি। যিনি ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসেন, তিনি তার ভোটারদের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। প্রয়োজনে দলের বিরুদ্ধেও মুখ খোলার অধিকার থাকে। অন্যদিকে, দলীয় মনোনয়ন দিয়ে সংসদে যাওয়া প্রার্থীদের কোনও নির্বাচনী এলাকা বা ভোটার থাকেন না। এটি কোনও ব্যক্তির সততার প্রশ্ন নয়, বরং কাঠামোগত দুর্বলতা। একজন সংসদ সদস্যই শেষ পর্যন্ত মানুষের আস্থা ও স্বার্থ রক্ষা করেন। বাংলাদেশে নারী জনসংখ্যা অর্ধেকের বেশি। তাদের পারদর্শিতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ থাকা উচিত। সংরক্ষিত আসনগুলোও যেন জনমত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, সেই দাবি তিনি তুলেছেন।

আবার তিনি উল্লেখ করেন, তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। মাত্র ১৯ দিন প্রচারণায়, পোস্টার ছাড়াই, মিছিল বা প্রচারমূলক খরচ সীমিত রেখেই ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। তবে নির্বাচনের সময় যে অসঙ্গতিগুলো ঘটেছিল, তার জন্য তিনি দলিলসহ সব কিছু রেখেছেন এবং ফলাফল মেনে নিয়েছেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে যদি সংসদে যেতে চান, তা জনগণের ভোটে হবেন। বাইরেও সমাজের কাজে তিনি অব্যাহত থাকবেন।

প্রসঙ্গত, ডা. তাসনিম জারা ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ওই দলের হয়ে প্রার্থী ছিলেন। তবে জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে নির্বাচনী জোটের কারণে তিনি দলের পদ থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ওই আসনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।