বুধবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে নতুন ২৮ নারীসহ মোট ৩৬ জন মনোনীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি সোমবার (২০ এপ্রিল) এক প্রস্ততি ঘোষণা করে ৩৬ জনের চূড়ান্ত মনোনয়ন। রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই নামগুলো ঘোষণা করেন।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই তালিকায় বেশ কিছু নতুন মুখের স্থান রয়েছে। এ বছর বিএনপি প্রথমবারের মতো ২৮ জন নারী মনোনয়ন পেয়েছেন, যার ফলে তারা সংসদে প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব করবেন। অন্যদিকে, ৮ জন আগে সংরক্ষিত কোটায় সংসদ সদস্য ছিলেন, তারা পুনরায় মনোনয়ন পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, রেহানা আক্তার রানু, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, সুলতানা আহমেদ ও নেওয়াজ হালিমা আর্নি।

তালিকায় এমনও দুই নারী রয়েছেন, যাদের স্বামী বা পিতার সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব রয়েছে। যেমন, বিএনপি নির্বাহী সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী—যাঁর বাবা সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও শ্বশুর বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। অন্য একজন হলেন শিরিন সুলতানা, যার স্বামী খায়রুল কবির খোকন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।

অতিরিক্ত, প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথিকা বিনতে হোসাইনও মনোনয়ন পেয়েছেন ওই তালিকায়।

সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে পরাজিত কিছু প্রার্থীও এবার মনোনীত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা-১৪ আসনের সানজিদা ইসলাম তুলি, যশোর-২ আসনের সাবিরা সুলতানা এবং শেরপুর-১ আসনের সানসিলা জেবরিন রয়েছেন।

তবে মহিলা দল থেকেও কিছু সদস্য মনোনয়ন পেয়েছেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া, বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মাহমুদা হাবিবা ও শাম্মী আক্তার।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির কমিটি থেকে তিনজন মনোনীত হয়েছেন: ফেরদৌস আহমেদ, আরিফা সুলতানা ও নাদিয়া পাঠান—যাঁরা সক্রিয় রাজনীতি করেছেন।

অপর দিকে, বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আক্তারও মনোনয়ন পেয়েছেন, যিনি এই সংরক্ষিত আসনের সবচেয়ে তরুণ। তাঁর বাবা প্রয়াত অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী।

বিএনপির তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কিছু মনোনীত নারী সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও পেয়েছেন সুযোগ। এদের মধ্যে একজন হলেন, মোবাইল অপারেটর বাংলা লিংকের সিইও জহরত আবিদ চৌধুরী।

বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে শায়রুল কবির খান জানান, এই মনোনয়নে অভিজ্ঞ রাজপথে আন্দোলিত ও নিপীড়িত নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি এবং দলের নেতারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।