সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাগেরহাটে যৌথ ব্যবসা দখল ও চেক জালিয়াতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাটের ব্যবসায়ী মোঃ শফিকুল ইসলাম শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাগেরহাট প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন যে, তার সঙ্গে যৌথভাবে চালানো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল ও সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে তার আপন ভাই হাফিজুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ বছর ধরে তিনি ও তার আপন মামা যৌথভাবে “মোল্লা হার্ডওয়ার স্টোর” নামের ব্যবসাটি পরিচালনা করে আসছেন। ব্যবসার জমির আয়তন ০.৫২৭ একর, যেখানে তিনি এক-তৃতীয়াংশ অংশীদার এবং প্রতিষ্ঠানের “৮ আনা” শেয়ারদার বলে দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার অংশীদার বিভিন্ন কৌশলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে। প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স এবং ব্যাংক হিসাব অংশীদারের নামে থাকায় সে একপক্ষীয়ভাবে আর্থিক লেনদেন করে আসছে এবং বছরের পর বছর তাকে কোনো হিসাব-লাভভাগ না দিয়ে বঞ্চিত করেছে।

শফিকুল আরও বলেন, অংশীদার প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবসায় ব্যবহার করছেন। এসব থেকে সংগৃহীত লাভ একনের ব্যাক্তিগতভাবে ভোগ করা হচ্ছে, অথচ তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার অংশের লভ্যাংশ পাননি।

তিনি দাবি করেন, হিসাব চাওয়ার প্রত্যুত্তরে তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক ব্যবসা স্থান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তার উপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে যাতে তিনি তার অংশের সম্পত্তি লিখে দেন; তা না করলে প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শফিকুল আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, কোনো সময় ব্যবসার মালামাল সরিয়ে নিয়ে তাকে তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে। তাই তিনি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছেন—বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হোক।

অপর একটি অভিযোগে তিনি বলেন, পূর্বে হারানো একটি ব্যাংক চেককে ভিত্তি করে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার দাবিতে একটি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যা তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং চেক জালিয়াতির অংশ বলে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করে জানান, তিনি উপর্যুক্ত কেলেঙ্কারি ও হয়রানির বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও সঠিক বিধান চান যাতে তার স্বত্ব ও মর্যাদা রক্ষা পায়।