সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২০ বছর পর দেইর আল-বালাহে স্থানীয় নির্বাচন শুরু

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে শনিবার সকাল থেকে পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এটি গাজায় দুই দশক ধরে প্রথম কোনো নির্বাচন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গাজায় সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৫ জানুয়ারি। সেই নির্বাচনে সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিল সশস্ত্র ইসলামি গোষ্ঠী হামাস। ক্ষমতায় বসার পর ২০০৭ সালে গাজা থেকে প্রতিপক্ষ ফাতাহকে বিতাড়িত করে হামাস মূলত একতরফা শাসন চালায় এবং পরোক্ষভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ উপত্যকায় কোনো নির্বাচন হয়নি।

রয়টার্সসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর দু’বছরের তীব্র সামরিক অভিযানের পর ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। ওই যুদ্ধবিরতির এক শর্তে গাজার আধাসামরিক বা রাজনৈতিক শাসন তুলে দিয়ে অরাজনৈতিক একটি টেকনোক্র্যাট প্রশাসন গঠনের কথা বলেছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে। কয়েক মাস আগে সে ধরনের একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠিত হয় এবং তার অধীনে এই স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে।

পশ্চিম তীরের সরকারে অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষ (পিএ) ও তার জোট এই নির্বাচনের মাধ্যমে গাজার রাজনীতিতে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ হিসেবে এটি দেখে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশের সরকারও গাজার এই স্থানীয় নির্বাচনের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এসেছে। তাদের মতে, নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব শক্তিশালী হলে ফিলিস্তিনি স্বশাসন ও ভবিষ্যত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হবে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দেইর আল-বালাহে নির্বাচন সফল হলে পুরো গাজায় নির্বাচনের সুযোগ ফিরে আসতে পারে এবং দুই দশক পর নির্বাচিত সরকার গঠনের সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে।

গাজার তত্ত্বাবধায়ক টেকনোক্র্যাট প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে তারা চাইছিল পুরো উপত্যকাতেই স্থানীয় নির্বাচন করাতে, কিন্তু ইসরায়েলি অভিযান শেষে শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় ও মलबা-পতন এখনও অপসারণ না হওয়ায় আপাতত এই শহরটিকেই নির্বাচনমঞ্চ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। দেইর আল-বালাহে অন্যান্য শহরগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতি হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহ পৌর নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৭০,৪৪৯। শহরজুড়ে ১২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে; বেশিরভাগ কেন্দ্রই জাতিসংঘের সহায়তায় তাবু স্থাপন করে করা হয়েছে।

হামাস এই নির্বাচন বয়কট ঘোষণা করেছে, তবে রয়টার্স বলেছে—হামাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকজন ব্যক্তি এ প্রক্রিয়ায় প্রার্থী হয়েছেন।

স্থানীয়রা সাধারণত এই নির্বাচনকে স্বাগত জানাচ্ছে। এক ভোটার, আদহাম আল-বারদিনি, রয়টার্সকে বলেছেন, “আমি জন্মের পর থেকে নির্বাচন কথাটা শুনে এসেছি; আজ নিজের চোখে দেখতে পারলাম নির্বাচন কী ও কেমন হয়।” অন্যরা বলছেন, দীর্ঘ সময়ে চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবতার পরিবর্তনের প্রত্যাশা তাদের ভোটে অংশ নেওয়ার কারণ।

রয়টার্সকে উল্লিখিত সূত্রের তথ্যকে চিকিৎসা করে এই প্রতিবেদন আয়োজন করা হয়েছে।