রবিবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রথম ম্যাচ জিতলেও সিরিজ হারালো বাংলাদেশ

তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জয় সত্ত্বেও পরের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ শিরোপা হাতছাড়া করলো বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আজ রাজশাহীতে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। জিতে থানা লঙ্কানরা সর্বমোট ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিল।

বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে জয়ের পর আশা জাগিয়েছিল, কিন্তু আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ব্যাট করে দম বন্ধ করে রাখার মতো ছক কষে শ্রীলঙ্কা। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার খেলতে গিয়ে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ২১৩ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সোবহানা মোস্তারি হদিশভরে ব্যাট করে ৮০ বলে ৭৪ রান করেন। শেষদিকে রিতু মণি ১৬ বল বেলায় তাৎপর্যপূর্ণ ২০ রান যোগ করে ইনিংসকে সাজান।

বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ভাল। ওপেনার ফারজানা হক ও শারমিন সুলতানা বহিরাগতভাবে দলের জন্য ভাল সূচনা করেন, তবে বড় ইনিংস সামলাতে পারেননি—ফারজানা ১১ রান করে ফিরে যান, আর শারমিন ১৭ রানে রান আউটে রুপোলি হয়ে যান। ৩৪ রানে দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ার পর শারমিন আক্তার ও জ্যোতি মিলে ইনিংসের হাল সামলান। শারমিন আক্তার ৩৬ বলে ২৫ রান করেন, আর জ্যোতির ব্যাট থেকে আসে ৯০ বলে ৪০ রান। মোটপক্ষে দমাল ব্যাটিং না করায় দলের রানরেট সীমিত থাকে।

চাপ সামলে দলকে স্থিতিশীল করতেই সোবহানা ক্রমে আক্রমণাত্মক বোল্ডিংয়ে পরিণত হন এবং ৬০ বল খেলে ব্যক্তিগত ফিফটি পূরণ করেন; শেষ পর্যন্ত ৮০ বলে ৭৪ রানে তিনি ফিরেছেন। সবমিলিয়ে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২১৩ রান সংগ্রহ করল।

জবাবে সূচনা ভালো করতে না পারলেও শ্রীলঙ্কার মাঝেমধ্যেই জুটি গড়ার কৌশল কাজ করে। জবাবে নেমে মাত্র ১৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা; দলনেতা চামারি আতাপাতু মাত্র ১০ রান করে আউট হন। এরপর ওপেনার হাসিনি পেরেরা ও ইমেশা দুলানির জুটি গড়ে দলকে বিপদের হাত থেকে টেনে নেন — দুজনের জুটি ১০৮ রানে গড়ে নিরাপদ ভিত্তি তৈরি করে। দুলানি ফিফটি পূরণ করার পর ৫৬ রানে ফেরেন।

এরপর তৃতীয় উইকেটে হাসিনি পেরেরা ও হারশিথা সামারাবিক্রমা ৭৮ রানের ঘনিষ্ঠ জুটি গড়ে দলের জয়ের পথ মসৃণ করে দেন। থ্রিলিং থাকত হাসিনির সেঞ্চুরি করার সুযোগ; কিন্তু কিন্তু ৯৫ রানে তিনি sobhana মোস্তারির করা বলে রাবেয়া খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন—নিজের একটি দুর্দান্ত ইনিংস ৫ রানে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। হারশিথা ৪৪ এবং হানসিমা ২ রান অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট নেন মারুফা আক্তার—দুইটি উইকেট। এছাড়া সোবহানা মোস্তারিও একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। তবু শ্রীলঙ্কার ধৈর্য্য এবং জুটি গঠন তত্ক্ষণাতই জয় নিশ্চিত করে; নির্ধারিত সময়েই ২১ বল শেসে রেখে তারা ৭ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে।

সংক্ষেপে, প্রথম ম্যাচে জয়ের পরও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারায় সিরিজ শেষমেশ শ্রীলঙ্কার কাঁধেই উঠে গেল। বাংলাদেশ আগামী ম্যাচগুলোতে ব্যাটিং রেস্ট্রিকশন ও বোলিং ডিপথ নিয়ে কাজ করলে ভবিষ্যতে ভালো ফল আশা করা যাবে।