মঙ্গলবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অভিযোগ: ফিলিস্তিনি শিশুদের অপহরণ ও হত্যা করছে ইসরায়েল

গাজার যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ফিলিস্তিনি শিশুদের নিখোঁজ হওয়া এবং ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা তাদের আটক ও স্থানান্তরের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অধিকারকর্মী বলছেন, এসব ঘটনা বিচারহীনভাবে ঘটছে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল-প্যালেস্টাইন (DCIP) ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা থেকে অনেক শিশুকে অভিযোগ বা বিচারের সুযোগ না দিয়েই আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানান্তর করা হচ্ছে ত্রাণ শিবির থেকে — এমনই একটি মামলায় ১৬ বছর বয়সী ওমর নিজার মাহমুদ আসফুরকে একটি ত্রাণ শিবির থেকে আটক করে সামরিক কারাগারে নেওয়া ও নির্যাতন করার কথা বলা হয়েছে।

কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে শিশুদের জিজ্ঞাসাবদীর সময় তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে, এমনকি পানির খোঁজে বের হওয়া শিশুদের ওপর ড্রোন হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব আচরণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শিশু কল্যাণ সংক্রান্ত আইনভঙ্গ বলে বহু সংগঠন উল্লেখ করছে।

সেভ দ্য চিলড্রেন-এর তথ্যে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ২১ হাজার শিশু নিখোঁজ রিপোর্ট করা হয়েছে — অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে, কেউ কেউ গণকবরের মধ্যে, আবার অনেকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানায়। যুদ্ধের কারণে এক বিশাল সংখ্যক শিশু তাদের অভিভাবক থেকে বিচ্ছিন্ন বা এতিম হয়েছে এবং পরিবারগুলো বন্দি বা নিখোঁজ সন্তানের কোনো খোঁজ পাচ্ছে না।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ থাকা দলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে; মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছেন, এই ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অধিক ত্রাস ও মানবতাবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগকে জোরালো করছে।

অপরদিকে, ইসরায়েলের কনেসেটে (পার্লামেন্ট) একটি বিতর্কিত আইন পাসের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছে। ওই আইনের অধীনে অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে ধরে আনা বন্দিদের ওপর হত্যাসহ ঘনিষ্ঠ আঘাতের দায়ে আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনপ্রণেতারা, আর সমালোচকরা বলছেন এই আইন আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া ও মানবিক নিরাপত্তা সীমিত করে।

বিবাদিত আইনের কিছু নানা ধারা অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে কারারক্ষীদের মাধ্যমে ফাঁসি কার্যকর করা যেতে পারে, বিনা জনসম্মুখে পরিচয় গোপন রাখা যেতে পারে, বন্দিদের বিশেষ কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ রাখা ও সাক্ষাতের সুযোগ কড়া শর্তে সীমাবদ্ধ করার কথাও বলা হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, এসব ব্যবস্থার ফলে দণ্ডপ্রাপ্তদের আইনি সুরক্ষা কমে যাবে এবং হয়ত নির্যাতন বা বিচারহীনতা আরও বাড়বে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানে ও কূটনীতিক মহলে এই পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। অধিকারকর্মীরা দাবি করছেন — নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান, আটক শিশুদের দ্রুত ও অন্তরায়হীন বিচারবিভাগে উপস্থাপন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিবারগুলো তাদের সন্তানের সন্ধান কামনা করে বসে আছে, আর বিশ্ব এমন অভিযোগের প্রতি নিরব থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলে সতর্ক করা হচ্ছে।