শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দেশে ফেরাতে সেভাবে কেউ উদ্যোগ নেয়নি: সাকিব

সাকিব আল হাসান বিশ্বকাপ-সংলগ্ন অপেক্ষাকে শেষ করতে পারেন বছরের শেষ নাগাদ — এমনটাই জানালেন তিনি নিজেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ২০২৬ সালের শেষের দিকে তিনি দেশে ফিরতে পারবেন বলে আশাবাদী। এতে তার দীর্ঘদিনের ভক্তদের প্রত্যাশা জাগছে।

সংবাদমাধ্যমকে সাকিব জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের ফিরতি পথ জটিল হয়ে পড়েছে। একজন আলাদা পরিচয়ে — ‘আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য’ হিসেবে — তার অবস্থান আর আগের মতো স্বচ্ছ নয়। মামলার শঙ্কায় তিনি ঝুঁকি নেননি এবং বর্তমানে পরিবারকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তবে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন, কবে দেশে ফিরবেন তা এতদিন স্পষ্ট করে বলেননি।

দ্য হিন্দুকে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ কী হবে তা এখনো পুরোপুরি ভাবিনি। তবে আমি মনে করি এ বছরের শেষদিকে সবকিছু সহজ হয়ে যাবে। এখন শুধু দোয়া করছি। একটা বিষয় নিশ্চিত, যেকোনোভাবে আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। প্রশ্ন শুধু কত দ্রুত সেটা হবে। আমি আশাবাদী যে এ বছরের শেষ নাগাদ ফিরতে পারব’।

সাকিব নিজেই বুঝিয়েছেন কেন এতদিন নির্দিষ্ট করে কথা বলছিলেন না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাপারটা হলো, যেকোনো কিছু যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। আগামীকাল কী হবে, তা বলা যায় না। এজন্যই এখন আমি আশাবাদী যে দেশে ফিরতে পারব। কী হতে পারে, তা নিয়ে অনেক বেশি ভাবছি না। পরিবারের সঙ্গে আছি, যখন খেলার সুযোগ পাচ্ছি খেলছি। কিন্তু বাংলাদেশে যাওয়ার ব্যাপারটা আমার হাতে নেই; আমি সমাধান খুঁজে যাচ্ছি।’

আরও এক সাক্ষাৎকারে (স্পোর্টসস্টার) সাকিব বলেন, ‘আগের বোর্ড সত্যিই আমাকে ফেরানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল। কিন্তু মুখে বলা আর সেটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া— দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। এখনো শুনি সবাই আমাকে ফেরাতে চায়, কিন্তু দুঃখের বিষয়, সত্যিই কেউ তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’

তিনি আরও জোর দিয়েছেন যে নিজেকে কেবল একটি বিদায়ী ম্যাচ দিয়েই বিদায় জানাতে চান না। ‘আমি এখনো ফিট আছি এবং দলকে অবদান রাখতে চাই। যতদিন আমি দলকে ইউনিট হিসেবে সাহায্য করতে পারব, খেলতে চাই। যখন মনে হবে আমি বোঝা হয়ে যাচ্ছি, তখনই আর খেলব না,’— বলেছেন সাকিব।

এক পর্যায়ে কানাডায় এক সমর্থকের ‘দেশের জন্য কী করেছেন?’ প্রশ্ন তাকে আহত করেছিল। সাকিব বলেছিলেন, দুই দশক ধরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার পর এমন প্রশ্ন শুনে তিনি বিস্মিত হন এবং পরে মনে হয় এসব পরিকল্পিত ছিল।

ক্রিকেট ছাড়া ভবিষ্যতে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ইচ্ছাও পুনরায় জানিয়েছেন সাকিব। পাশাপাশি তিনি কোচিং বা ম্যাচ রেফারির মতো ভূমিকাতেও নিজেকে দেখতে চান।

বর্তমানে পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকলেও সাকিবের ভাষায় আশা ও ইচ্ছা স্পষ্ট: তিনি দেশে ফিরবেন এবং যতদিন পারেন দলের জন্য খেলবেন—এটাই তার লক্ষ্য।