স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সরকারে ঢুকার পর থেকেই তিনি যেখানে যান সেখানে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতি দেখতে পান। এসব বিষয় আগামী পথচলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘‘সরকারের ভেতরে যতই ঢুকছি, ততই আতঙ্কিত হচ্ছি। তদবির ছাড়া কাজ হয় না—গত ১৫ বছরে এটা যেন নিয়ম হয়ে উঠেছে। বহু মানুষ ভাইস চ্যান্সেলর হতে তদবির করেছেন। এটি সিস্টেমের ব্যর্থতা; মেধা ও বুদ্ধিমত্তার জায়গা অনেকটাই হারিয়ে গেছে।’’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে যে আলোচনা-বহস চলছে, তা ভালো; তবে রাজনৈতিক স্বার্থে এসবকে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। ‘‘জুলাই সনদের প্রতিটি ধাপে আমরা ছিলাম, কিছু জায়গায় নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি,’’ জানান তিনি।
বিএনপির একজন নেতা হিসেবে মির্জা ফখরুল বলেন, উচ্চকক্ষের পিআর বিষয়ে তারা একমত হয়নি এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদেও তাদের সমর্থন ছিল না। তিনি বলেন, ‘‘এখন অনায়াসে বলা হচ্ছে সবকিছুই করতে হবে—এতে আমরা একমত নই।’’
সামাজিক মাধ্যমে প্রচলিত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই বলছেন বিএনপি সংস্কারের পক্ষে নেই; অথচ বিএনপিই সংস্কারের জনক। কেউ ভুল ধারণা ছড়াচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতও এই বিষয়ে আন্দোলন করছে যার উদ্দেশ্য দেশে আবার অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা।
এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের অর্থনীতিকে ঠিক করাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং এর জন্য জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘ফ্যাসিস্ট আমলে ৮০ লাখ কোটি টাকা ঋণ রেখে গেছে; তাদের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পুনর্গঠনই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’’
মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির ইতিমধ্যেই অনেক অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে; আরেকটি সহযোগী সংগঠনের প্রয়োজন নয়। তিনি বলেন, ‘‘জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক—এটি আমরা চাই না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’’





