বৃহস্পতিবার, ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে ব্যাগ, ড্রেস ও ফুটওয়্যার বিতরণের উদ্যোগ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন যে, দেশের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর হলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে পাটের তৈরি ব্যাগ, ড্রেস ও ফুটওয়্যার সরবরাহের কার্যক্রম দ্রুত কার্যকর হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুগুলোর জন্য মানসম্পন্ন ও ব্যবহার উপযোগী জুতা ও পোশাক তাদের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

আজ বৃহস্পতিবার (০৭ মে), সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত দেশের শীর্ষস্থানীয় লেদারগুডস ও ফুটওয়্যার প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে এক যুগ্ম সভায় প্রতিমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায়, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুবিধাজনক উপহার দ্রুত দিয়ে তাদের মর্যাদার সঙ্গে শিক্ষালাভে সহায়তা করছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বাস্তবায়ন দ্রুত এগিয়ে যাবে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্পন্ন জুতা বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের সিএসআর এর আওতায় এই প্রকল্পে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস প্রদান করেছেন।

প্রাথমিকভাবে দেশের প্রতিটা উপজেলায় দুটি করে সরকারি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিশুদের মধ্যে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী এই উপকরণ পাবেন। এই পাইলট প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুধুমাত্র বিতরণ নয়, বরং এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সমন্বিত সহায়তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এজন্য জুতার মান, ডিজাইন, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং গুণগত মানের মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভায়, জুতার মান ও মানদণ্ড নিশ্চিত করার জন্য একটি প্রযুক্তিগত ও মানদণ্ড নির্ধারণী কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ, লেদার ইনস্টিটিউট, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকবেন। টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সম্পৃক্ততা, ডিজাইন ও মান যাচাইয়ে আরও গুরুত্বারোপ করা হয়, যেন আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বুটেক্স, অ্যাপেক্স, প্রাণ-আরএফএল, বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিনিধিরা, পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুরা সুন্দর, মানসম্পন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ পোশাক পাবে, যা তাদের আত্মসম্মান ও শিক্ষাগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।