বৃহস্পতিবার, ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পদত্যাগ করব না, ওরা চাইলে বরখাস্ত করুক: অনড় মমতা

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহজুড়ে প্রতিবাদ আর ক্ষোভের মাঝেই তিনি বলেছে, “ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই দিনটি একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হোক।”

গতকাল থেকে শুরু হওয়া বিতর্ক ও বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দলের বিধায়কদের সঙ্গে এক বৈঠকে মমতা জানান, ২৯ এপ্রিল থেকে যে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সেই অভিযোগ নিয়েই তার দল আদালতে যাবে। বৈঠকে দলের কর্মীদের মনোবল বাড়াতে ও ঐক্য ধরে রাখতে তিনি কড়া বার্তা দিয়েছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বললে সেই নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী বড় কোনো সহিংসতা ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত যা বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবর আছে, তা ২০২১ সালের পরের সময়ের তুলনায় অনেক কম। কিছু গুন্ডা এখনও সক্রিয় আছে—তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে,’’ বলে তিনি জোর দিয়েছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলকে সরব ও আন্দোলনমুখী রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে বিধানসভা খোলার দিনকে ‘‘কালো পোশাক দিবস’’ হিসেবে পালন করা হবে, যাতে রাজনৈতিক ঐক্য ও প্রতিবাদের সুর বজায় থাকে।

৭১ বছর বয়সী এ নেত্রী নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই নিজের অবস্থান অটল রাখছেন এবং নির্বাচনের ফলের দ্বায় নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছেন। তিনি কমিশনের বিরুদ্ধেই ‘‘নোংরা খেলা’’ খেলার অভিযোগ তুলেছেন এবং মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও বিহারের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী জোটের পরাজয়ের উদাহরণ টানিয়েছেন।

সংবিধানগত ও রাজনীতিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে কীভাবে সরানো যায় সে বিষয়ে প্রশ্ন ওঠায় সূত্রগুলো বলছে, রাজ্যপাল(গভর্নর) প্রযুক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর বরখাস্তের ক্ষমতা রাখেন—বিশেষত যদি আস্থা ভোট না থাকলে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিধানসভা ভাঙ্গা না হওয়া এবং রিজাল্ট স্বচ্ছতা সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় সরাসরি প্রয়োগ সহজ নয়। রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা এক চরম পদক্ষেপ, এবং রাজ্যপাল চাইলে বিজয়ী দলকে সরকার গঠনের আহ্বানও জানাতে পারেন।

এই প্রেক্ষাপটে, আজ বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ—৭ মে শেষ হচ্ছে, ফলে সময় সীমিত। ইতিমধ্যেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সহ কয়েকজন রাজ্যস্তরের নেতাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বরখাস্তের আহ্বান করতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় পরবর্তী কয়েকদিন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর কাড়বে।