শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিজয় ভাগ করলেন তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের এমজি রেকর্ড

থালাপতি বিজয়—ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সুপরিচিত তারকা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর—রাজনীতিতে তাঁর প্রথম নির্বাচনী যুদ্ধে তাক লাগানো সাফল্য দেখিয়েছেন। এই ভোটে শুধু ব্যক্তিগতভাবে তিনি জয়ী হয়েছেন না, তার নেতৃত্বে সদ্য গঠিত দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের পুরনো এক রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে।

১৯৭৭ সালে এমজি রামাচন্দ্রন (এমজিআর) চলচ্চিত্র জীবনের থেকে সরাসরি রাজনীতিতে এসে একটি নিজস্ব দল গঠন করে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ছিলেন—এ ধরনের ঘটনা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিরল। এমজিআর ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় ওঠেন এবং ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজ্যকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন; তার রাজনৈতিক দল ছিল এআইএডিএমকে। পরবর্তীতে জয়া ললিতা এসেও মুখ্যমন্ত্রী হন, কিন্তু তিনি নিজে কোনো নতুন রাজনৈতিক দল গঠন না করে এমজিআরের পার্টি এআইএডিএমকে-তেই নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এরপর কোনো চলচ্চিত্রতারকা ওই চূড়ান্ত রাজনৈতিক শীর্ষস্থানে আর উঠতে পারেননি।

এবারের নির্বাচনে বিজয় ও তাঁর দল সেই ইতিহাসের অনুকরণে একই সোপানে পৌঁছেছি বলে বলা হচ্ছে। তামিলনাড়ুর বিধানসভার মোট আসন ২৩৪; একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। বিজয় নিজে জয় পেয়েছেন এবং টিভিকে এই বিধানসভায় ১০৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে—২০২৪ সালে গঠিত একটি নতুন রাজনৈতিক দলের জন্য অপ্রত্যাশিত ও অসাধারণ ফল। পার্লামেন্টারি গণতান্ত্রিক রীতিতে এককভাবে সরকার গঠন করতে টিভিকে যথেষ্ট নয়, তাই অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোট নিয়ে সরকার গঠন করতে হবে; তবু জোটের নেতৃত্ব টিভিকের কাঁধেই থাকলেও এবং বিজয়ই তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের অপেক্ষায় আছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

কীভাবে এই সাফল্য? এমজিআরের মতোই বিজয়ও দীর্ঘ সময় ধরে ভক্তশ্রেণিকে সংগঠিত করে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছেন। ২০০৯ সালের দিকে থেকে তিনি ভক্তদের সংগঠিত করা শুরু করেন এবং বিভিন্ন ভক্তগোষ্ঠীকে একত্র করে বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম নামে একটি ঐক্য গড়েছেন। এই সংগঠন ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এমজিআরের দল এআইএডিএমকে-কে সমর্থনও দিয়েছে। ২০২১ সালে সে সমর্থন প্রত্যাহার করে বিজয় নিজে রাজনৈতিক দলের দিকে আরও গুরুত্ব দিতে থাকেন এবং ২০২৪ সালে টিভিকে আত্মপ্রকাশ করে।

ফলত: চলচ্চিত্র দুনিয়া থেকে উঠে এসে নিজ দল গঠন করে প্রথমবারের নির্বাচনে এত বড় প্রভাব দেখা দেওয়া—তাই এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়কে এমজিআরের তৈরি করা ঐতিহ্যের সঙ্গে জুড়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি।