শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজ্যপাল ভেঙে দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অধ্যায় বন্ধ

রাজ্যপাল আর এন রবি বৃহস্পতিবার (৭ মে) পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। রাজ্যপালের অফিস থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতের সংবিধানের ১৭৪(২)(খ) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে ৭ মে থেকে বিধানসভা বিলুপ্ত করা হলো।

এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই টানা ১৫ বছর রাজ্যের শাসনভারোমধ্য ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসপ্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অধ্যায় বিচ্ছিন্ন হলো বলে রাজনৈতিক পর্যালোচকদের কয়েকটি মন্তব্যে দেখা যাচ্ছে। মমতা প্রথমবার ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং এরপর তিনবারের জন্য রাজ্য পরিচালনা করেন।

গত ৪ মে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের সরকারি ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০০-এর বেশি আসনে জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), ফলে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় শাসিত দলটি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই শরীরগত ও সাংবিধানিকভাবে নতুন সরকারের পথ পরিষ্কার হচ্ছে।

নির্বাচনের ফলের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথা অনুযায়ী রাজভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সন্দেহ ও আলোচনা দেখা দিয়েছিল। রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তের পরে সেই অনিশ্চয়তা অনেকাংশে কাটল এবং এখন নতুন মন্ত্রিসভা গঠন ও নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন—এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্ভবত ৯ মে (রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তী) হতে পারে; কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ের নেতা-নেত্রীরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

এর মধ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ বিবেচনায় নেমে এল আরও এক উত্তেজক ঘটনা। বুধবার রাতে কলকাতা থেকে ফেরার পথে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ার কাছে হামলা চালিয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন এবং গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা আহত হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী এই ঘটনায় তিনজনকে সন্দেহজনক হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে; তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা, আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত দোষীদের খুঁজে বের করতে সব রকম চেষ্টা চলছে।

এই ঘটনার দায় চাপানোর লড়াইয়ে বিজেপি তৃণমূলকে অভিযুক্ত করেছে, ট্যাগার অপরদিকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কোনো রাজনৈতিকভাবে সম্পর্কিত হতেই অস্বীকার করেছে এবং নির্বাচনের পরের সহিংসতার সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছে।

সরকার গঠন, শপথ ও নিরাপত্তা-পরিস্থিতি—এসব মিলিয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী কয়েক দিনে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য স্তরের সিদ্ধান্ত এবং তদন্তের অগ্রগতি রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্র আরও স্পষ্ট করবে।