মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের জন্য নজরকাড়া ঘটনা ঘটেছে, যেখানে নাজমুল হোসেন শান্তর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কারণে তারা ৪১৩ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। মুশফিকুর রহিম ৭১ রানের পাশাপাশি, তাসকিন আহমেদের শেষের ঝড়ে প্রথম ইনিংসে দলের সংগ্রহে যোগ হয় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ রান। এরপর, অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান আজান আওয়াইসের হাফ সেঞ্চুরির সৌজন্যে পাকিস্তান প্রথম দিন শেষ করে ১৭৯ রানে অপরাজিত থাকেন, যেখানে তারা এখনও বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ রান পিছিয়ে। ট্র্যাকের এই পর্যায়ে, পাকিস্তানের দৃঢ়তা দেখায় যে, তারা এখনও ব্যবধান কমানোর যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রথম দিন বাংলাদেশের বোলিং শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না। বোলাররা ধারাবাহিকতা হারিয়ে লাইন ও লেংথে বদল আনতে পারতেন না, যার সুযোগ নিয়ে পাকিস্তানের ওপেনাররা ওয়ানডে-মেজাজে দ্রুত রান তুলে নেন। মাত্র ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ৫০ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান, এবং ২০.৪ ওভারে দলীয় শতক পূর্ণ করে। অভিষেকের দিনেই ৬৫ বলে ফিফটি তুলে আনার পাশাপাশি আওয়াইসের হাফ সেঞ্চুরিও দেখা যায়।
বাংলাদেশের বলিং আক্রমণে শুরুতেই কিছু সমস্যা দেখা দেয়। ১৫ ওভার পর্যন্ত স্পিনাররা আক্রমণে আসেননি, এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে দিয়ে ধারাবাহিক বল করতে শুরু করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ২২তম ওভারে পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি ভাঙেন মিরাজ। এরপরই ইমাম উল হককে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন তিনি। ইমাম ৭২ বলে ৪৫ রান করেন, তাঁর ইনিংসেতে ছয়টি চারের মার ছিল। এই উইকেটের মাধ্যমে আওয়াইসের সঙ্গে তার ১০৬ রানের ওপেনিং জুটি ভেঙে যায়।
পাকিস্তান দল ৩৬.৩ ওভারে পৌঁছায় ১৫০ রানে, যেখানে আওয়াইসের সঙ্গে দুর্দান্ত ব্যাটিং চালিয়ে যান অভিষিক্ত ফজলও। প্রথমে কিছুক্ষণ রান না করলেও পরবর্তীতে ২৯ রান করলেন। আওয়াইস ১৩৩ বলের ইনিংসে ৮৫ রানে অপরাজিত থাকেন, যেখানে ছয়টি চার ছিলেন। ফজল ৭৮ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে। শুরুতে মুশফিকুর রহিম আর লিটন দাস সংযত ব্যাটিং করেন। তবে, লিটন মোহাম্মদ আব্বাসের বাইরের ডেলিভারিতে মিড অনে ধরা পড়েন, ৩৩ রান করে। মিরাজও সুবিধা করতে না পারায় ১০ রান নিয়ে আউট হন। তার উইকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ ষষ্ঠ উইকেট হারায়।
তাইজুল ইসলামও আব্বাসের বাউন্সি বলের খোঁচা দিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন। ২৩ বলে ১৭ রান করেন তিনি। এরপর, ৭ উইকেটে ৩৮০ রান করে বাংলাদেশ লাঞ্চে যায়।
বিরতির পরে তৃতীয় বলেই মুশফিকুর রহিম ফিরে যান। শাহীন শাহ আফ্রিদির দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে তিনি বোল্ড হন, ১৭৯ বলে ৭১ রানের ইনিংসে আটটি বাউন্ডারি ছিল। এরপরই, ইবাদত হোসেনের প্রতি কিছু পান না করে, এই পেসারকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন আব্বাস। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের সবচেয়ে হতাশাজনক দিন হয়, যেখানে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা চাপের মধ্যে পড়ে।
অবশেষে, মোহাম্মদ আব্বাসের ডেলিভারিতে তাসকিন আহমেদ তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারেন, ১৯ বলে ২৮ রান করে দলকে ৪শ’ পার করেন। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ সম্পন্ন হয়। পাকিস্তানের জন্য এখনও লক্ষ্য কঠিন থাকলেও, তারা ম্যাচে ফিরতে দৃঢ় প্রত্যয়ী।





