ঝিনাইদহের মহেশপুরে আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদুল ইসলাম চালাচ্ছেন এক দলদস্যুতার অসাধু খেলাপ। অভিযোগে জানা গেছে, ৫ মে সন্ধ্যায় তিনি খালিশপুর বাজারের কাছে একটি বাড়িতে গিয়ে গৃহবধূর উপর ধর্ষণের চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন চিৎকার করলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন দুইজন যুবক এবং ভিকটিমের স্বামী। তারা ধরা পড়ার পর, ভিকটিমের স্বামী ও তার দুই সহযোগী অভিযুক্তের কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার পাশাপাশি দুই লাখ টাকার একটি চেকও হাতিয়ে নেয়। এরপর তাহমিনা শম্পা নামে এক নারী, যিনি অভিযুক্তের पत्नी, তার স্বামীকে ব্যাপক মারপিট ও হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ গত রোববার তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মহেশপুরের খালিশপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহবুবুর রহমান, একই গ্রামের মৃত মঈনুদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান ছোট, এবং মহেশপুরের কুরিপোল গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিম আলীর ছেলে মোঃ ফিরোজ।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার দিন সাজ্জাদুল ইসলাম ওই বাড়িতে গিয়ে গৃহবধূর সাথে অসদাচরণের চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা তার চিৎকারে বাধা দেন এবং পরিস্থিতি জানার পর তিনি আটক হন। পরে ভিকটিমের স্বামী ও দুই যুবক তাকে অর্থের বিনিময়ে ঘটনা গোপন রাখার জন্য সম্মতি দেন, যা তদন্তের আওতায় এসেছে।
অভিযোগের ভাষ্য, ঘটনার চার দিন পর ভিকটিম নারী মহেশপুর থানায় অভিযোগ করেন। মহেশপুর থানার ওসি মেহেদি হাসান জানান, তদন্ত শেষে অভিযুক্ত সাজ্জাদুল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ধর্ষণ চেষ্টার সঙ্গে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও সত্য, এবং পুলিশ এখন এই বিষয়গুলো তদন্ত করছে।
তবে, অভিযুক্তের স্ত্রী তাহমিনা শম্পা বলছেন, তার স্বামীকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য এ সব তথ্য সাজানো হয়েছে, এ সময় তিনি চেক ও টাকা উদ্ধারে পুলিশকে সহায়তা করেন। অন্যদিকে, ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগকারী নারী জানান, ঘটনার সময় অভিযুক্ত তাকে হেনস্থা করেন। তিনি চিৎকার করলে আশেপাশে থাকা দুই যুবক তাকে উদ্ধার করে। অভিযোগের শর্তে ভিকটিমের স্বামী ও সহযোগীরা অর্থ নেওয়ার জন্য হাজির হয়েছিলেন।
সুত্রাবলি বলছে, এই ঘটনার পর নানা মীমাংসার চেষ্টা ও শালিস করেন অভিযুক্তসহ অন্যরা। পুলিশ এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। মহেশপুর থানার ওসি মেহেদি হাসান নিশ্চিত করেছেন, সকল দোষী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তাঁদের চেষ্টা চলছে।





