ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার পতনের দাবি এবং দক্ষিণ লেবাননে চলমান সামরিক হামলা বন্ধের জন্য তেল আবিবের রাজপথে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাতে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ সরকার ও তার যুদ্ধনীতি বিরুদ্ধে ধিক্কার জানান। দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই বিক্ষোভ আরও বহুমাত্রিক রূপ লাভ করেছে। চলতি বছরের শেষের দিকে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও, এর আগে ইরান ও লেবাননের সংঘাত, কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক সেবা নিয়ে বিস্তৃত বিতর্ক এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবেগপ্রবণ বক্তারা সরকারের অক্ষমতা এবং মিথ্যাচারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ৮৩ বছরের অবসরপ্রাপ্ত ডেভিড আলকান বলেন, বর্তমান সরকার দেশের জন্য বিপজ্জনক এক বিপর্যয়। তিনি অভিযোগ করেন, এই সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। আলকান আরও উল্লেখ করেন, বাইরের শত্রু ইরানের চেয়েও দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজন বেশি ক্ষতিকর। বিশেষ করে কট্টর অর্থোডক্স গোষ্ঠীর সার্বভৌম সেবা দিতে অস্বীকৃতি এবং তাদের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন বিতর্কিত শ্লোগান ও প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা গেছে, যেখানে কিছুতে লেখা রয়েছে ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ এবং ‘৭ অক্টোবর ভুলে যাও’। এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় অনেক বিক্ষোভকারী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নামের সঙ্গে ‘বিবি’ ডাকনামটি ব্যবহার করে কলম্বিয়ান ড্রাগ লর্ড পাবলো এসকোবারের সঙ্গে তুলনা করে তাকে ‘বিবি এসকোবার’ বলে ঠাট্টা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের পাশাপাশি দেশের ভেতরে সামরিক আইনের ব্যাপক প্রসার এবং বৈষম্য পরিস্থিতি নেতানিয়াহুর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক চাপের পাশাপাশি দেশের জনগণের এই আন্দোলন আগামী নির্বাচনে বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের মাথা ব্যথা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই।





