বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অর্থনীতিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নয়: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের সকল গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে এভাবেই স্বচ্ছ ও পেশাদার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। তিনি জানান, আর্থিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে কোনও ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলবে না, সবকিছু হবে সম্পূর্ণ পেশাদারী মানদণ্ডে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসেবে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন, সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের কোনও রাজনৈতিক নিয়োগ বা প্রভাব এখানে কাজ করবে না। এটি হবে একদম পেশাদার প্রতিষ্ঠান, যা স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করবে। তিনি জানান, বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের বিকাশে এই কোম্পানি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। এটি কেবল একটি বিনিয়োগ সংস্থা নয়, বরং দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসার ঘটানোর প্ল্যাটফর্ম। তিনি আরো বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের মূল দুটি সমস্যা হলো ফান্ডের অভাব এবং জামানত প্রদানের অক্ষমতা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। এখানকার বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দক্ষ এবং পেশাদার। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগটি আমাদের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধা কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় আনা হবে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সময়ের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে সরকার। পুঁজিবাজারের সংস্কার, ডিরেগুলেশন, দক্ষ উপদেষ্টা নিয়োগ এবং দেশের ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডার ক্যাপিটালাইজেশন দূরীকরণে কাজ করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এটি শুধু ব্যাংকিং বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলির অংশগ্রহণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে এই উদ্যোগ এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের সফলতার জন্য সব ধরনের পলিসি সমর্থন দেবে। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক মিলে গঠন করেছে এই ভেঞ্চার ক্যপিটাল উদ্যোগ, যা দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।