চলতি বছর আরাফাতের দিন বিশ্ববাসী একটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনার অধীনে আসছে। সেই দিনে দুপুরে পবিত্র কাবা শরীফের ঠিক ওপর দিয়ে সূর্য অবস্থান করবে, ফলে কাবার আশপাশে ছায়া পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদন জানায়, ঘটনাটি ঘটবে আগামী ২৭ মে দুপুরে। মক্কার ভৌগোলিক অক্ষাংশ প্রায় উত্তর ২১.৪° হওয়ায় সূর্য যখন নিরক্ষরেখা ও কর্কটক্রান্তি—এই দুই উপরের অঞ্চলের মধ্যে ওঠানামা করে, তখন কাবার ওপর সূর্য সরাসরি অবস্থান করে। ভৌগোলিক মাত্রার এ মিল কয়েক বছর পর পর ঘটে; জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন, এমন বিরল সমাপতন সাধারণত প্রায় ৩৩ বছরে একবার ঘটছে এবং সর্বশেষ বিশ্ববাসী ১৯৯৩ সালে এই দৃশ্য দেখেছিল।
এ প্রসঙ্গে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা হল—হিজরি চান্দ্র ক্যালেন্ডার ও গ্রেগরিয়ান সৌর ক্যালেন্ডারের পার্থক্যের কারণে চান্দ্র বছরের চক্র একই সৌর তারিখের সঙ্গে পুনরায় মিলে যেতে অনেক বছর লাগে, ফলে এধরণের বিরল সমাপতন তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, একই সূর্যীয় অবস্থান কাবার ওপর সাধারণত বছরে দুবার ঘটে, তবে আরাফাতের দিনের সঙ্গে মিললে ঘটনাটি বিশেষভাবে নজরকাড়া হয়।
সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র এ ঘটনাকে কেবল প্রাকৃতিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পুনরাবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং সতর্ক করেছে যে এর মানে এ নয় যে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে। আবহাওয়ার তাপমাত্রা নির্ভর করে কেবল সূর্যের অবস্থানের ওপর নয়; আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছায়া, বায়ুপ্রবাহ ও অন্যান্য জলবায়ুগত ফ্যাক্টরও তাতে বড় ভূমিকা রাখে।
কেন্দ্রের সরকারি মুখপাত্র হুসেইন আল-কাহতানি বলেন, এই ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণগুলি স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণের অংশ এবং প্রতি বছরই অ্যানালাইসিস করা হয়। তিনি আরও বলেছেন, আবহাওয়া তথ্যের নির্ভুলতা ও তাপমাত্রা প্রতিবেদন নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সংখ্যাসূচক পূর্বাভাস মডেল একসঙ্গে ব্যবহার করে। গুজব বা যাচাইহীন দাবি বিশ্বাস না করে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য নেওয়ার আবেদনও জানান তিনি।
সংক্ষেপে, আরাফাতের দিনে কাবা শরীফের ওপর সূর্য সরাসরি অবস্থান—চোখে পড়ার মতো একটি বিরল প্রাকৃতিক দৃশ্য। এটি ধর্মীয় ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনন্য হলেও আবহাওয়ার তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়ে তাড়াহুড়ো করে ভীতি ছড়ানোর দরকার নেই; নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করাই যুক্তিযুক্ত পথ।





