বিধান পরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কাউন্সিলরদের পদত্যাগের হিড়িক শুরু হয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন পৌরসভায় শতাধিক কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন, যার ফলে প্রশাসনিক সমস্যার পাশাপাশি নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘এ লোকগুলোর চলে যাওয়াই উচিত। আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি এমন কথা বলা হচ্ছিল যে যারা বাংলাদেশি নাগরিক, তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে—তাই তাদের ফিরিয়ে নেয়া উচিত।’’
শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘আমরা পুলিশকে জানিয়েছি, এই মানুষগুলোকে কারাগারে পাঠানোর দরকার নেই। তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে হবে—খাবার দেব, কাপড় দেব, ওষুধ দেব—তবে তারা কি আমাদের জামাই? তাড়াতাড়ি চলে যাও; না হলে সরকার যা করবে, করবে।’’
গত ৯ মে বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকেই তৃণমূল শিবিরে ভাঙন শুরু হয়। হালিশহর, ভাটপাড়া, গারুলিয়া, উত্তর ব্যারাকপুর, কাঁচরাপাড়া, নৈহাটি, কাঁথি ও ডায়মন্ড হারবার সহ একাধিক পৌরসভায় কাউন্সিলর, পৌরপ্রধান ও উপ-পৌরপ্রধান পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগ করা কয়েকজন নেতা শুভেন্দুর উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসাও করেছেন। তাদের অভিযোগ, পূর্বে দলীয় চাপ ও ভয়ের কারণে তারা মুখ খুলতে পারেননি।
শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আদালতে পাঠানোর দরকার নেই। সরাসরি পুলিশ তাদের গ্রেফতার করবে এবং বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করা হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে যে যে চুক্তি আছে, তাতে প্রমাণিত হলে বাংলাদেশ তাদের নেবে।’’ তিনি দাবি করেন, দেশীয় কারাগারে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের রাখা ভারতীয়দের ক্ষতিই বাড়াবে এবং রাজ্যের জন্যও ক্ষতিকর হবে।
শেষে শুভেন্দু আরও বললেন, ‘‘ভারতে ফরেনার্স অ্যাক্ট (বিদেশী আইন) বহু দিন ধরেই আছে; এটি কোনো নতুন আইন নয়।’’
রাজনৈতিক আন্দোলন ও পদত্যাগের এই ধারা প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও স্থানীয় পরিষেবা প্রভাবিত করার বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। 앞으로 এই কাউন্সিলরদের পদত্যাগ এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে তা নিরীক্ষণ করা হচ্ছে।





