খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে। সলুয়ায় নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্টটি চালু হলে দৈনিক প্রায় ৩৫০ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা থাকবে। এ প্ল্যান্ট কার্যকর হলে বর্জ্যকে ব্যবসায়িক পণ্যে পরিগণিত করার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রশাসক এসব কথা বলেন গতকাল সোমবার বিকেলে নগরীর ২৭নং ওয়ার্ডের পূর্ববানিয়াখামারের জনকল্যাণ টাওয়ারে আয়োজিত “মডেল ওয়ার্ড বাস্তবায়নে নাগরিক অংশগ্রহণ” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায়। সভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বাড়ি থেকেই বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ-খুলনা ও গণমুখি বেসরকারি সংস্থা পরিবর্তন। পরিবর্তন সংস্থা নগরের ২৭নং ওয়ার্ডটিকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করছে। অনুষ্ঠানে কেসিসি প্রশাসক নগরবাসীকে অনুরোধ করেন, বর্জ্য ড্রেনে বা পথের ধারে ফেলা বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করে কেসিসি’র কার্যক্রমের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ-খুলনার সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদর-ই খুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেসিসির কনজারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান এবং খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুতপা বেদজ্ঞ, এবং স্বাগত বক্তৃতা দেন পরিবর্তন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী নাজমুল আজম ডেভিড।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজির অধ্যাপক ড. মোঃ ওয়াসিউল ইসলাম ডিজিটাল উপস্থাপনার মাধ্যমে নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রাখার নানা কনটেন্টও প্রদর্শন করেন।
মতবিনিময় সভায় জোর দিয়ে বলা হয়, ২৭নং ওয়ার্ডকে বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ রাখার জন্য কেসিসি’র পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ—তরুণ, ছাত্রছাত্রী, যুবক-যুবতী, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতাসহ নানা স্তরের মানুষকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। সভায় নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ করা হয় যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার, অন্যকে ঝোঁক না দেওয়ার এবং পরিবেশ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অঙ্গীকার করার।





