ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের ঘোষণার মধ্যেই লেবাননে এক দিনে অন্তত ৩১ জন নিহত ও প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন, জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে ইসরায়েলি স্থলবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের আরও ভেতরে অগ্রসর হয়েছে। সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার অংশ হিসেবে মাত্র দশ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ ও পূর্ব লেবানের প্রায় ৫০টি শহর, উপজেলা ও গ্রামের বাসিন্দাদের নিজেদের এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সতর্কবাণীতে বলেছে, সম্ভাব্য হামলার আগে দ্রুত সরে গিয়ে জাহরানি নদীর উত্তরে আশ্রয় নিতে হবে। সূত্রগুলো জানায়, জাহরানি নদীটি ইসরায়েল-লেবাননের সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাদের বাহিনী এখন লেবাননের ভেতরে অভিযান চালাচ্ছে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল ও নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির সময়ও ইসরায়েলি বাহিনী শতশত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হটিয়েছে।
নেতানিয়াহু আরও বলেছেন, ‘‘হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আমরা এক মুহূর্তের জন্যও লড়াই থামাবো না। ইসরায়েলের নাগরিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’
সামরিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, হিজবুল্লাহ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে, বিশেষ করে ফাইবার-অপটিক কেবলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ফার্স্ট-পারসন ভিউ (এফপিভি) ড্রোনগুলো ইসরায়েলের উন্নত রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ড্রোন ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে বলে বলা হয়।
উত্তর ইসরায়েলের কিছু এলাকায় বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বেজে ওঠার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকেই ছোড়া একটি বিশেষ প্রজেক্টাইল সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরায়েলে প্রবেশ করেছে এবং জনবসতিহীন খোলা জায়গায় পড়েছে; এতে কোনো হতাহতের কথা জানানো হয়নি। তবে সেটি রকেট না ড্রোন— তা নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, মঙ্গলবার তারা দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি ইউনিটের উপর ৩২টি পৃথক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় তারা ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও আইরন-ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি স্থাপনা লক্ষ্যভূমি করেছে এবং দুটি ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার ড্রোন ভূপাতিত করারও দাবি করেছে।
পরিস্থিতি অস্থির থাকায় আহত ও নিহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এলাকাজুড়ে সামরিক ক্রিয়াকলাপ ও মানুষের স্থানান্তর চলতে থাকায় সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।





